💔অবহেলা ও ভালোবাসা💔

--আমি গাড়িতে বসে আছি পাঁচ মিনিট। কিন্তু এখনো রেণু আসছেনা। তখনি একটা ফোন এলো। ফোনটা ধরতেই ওকিলবাবু বললেন,, কাগজপত্র সব রেডি। আমি আমি ওনাকে বললাম,, যাতে অফিসে পাঠিয়ে দেয়। ফোনটা রাখার পর বড় একটা হাফ ছাড়লাম। অবশেষে আখি নামক প্যারা থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছি। "" তখনি দেখি রেণু আর আখি একসাথে আসছে। কিব্যাপার আখি কেন আসছে?🤔 "" রেণু আমার পাশে বসলো আর আখি পিছনে। "" আমি আর থাকতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম,, অনু আবার কোথায় যাবে? "" তখন রেণু বললো,, আখি নাকি রেণুর কলেজেই এডমিশন নিয়েছে। আমি আর কিছু না বলে গাড়ি স্টার্ট দিলাম। রাস্তায় রেণুর সাথে অনেক কথাই হলো। কিন্তু আখি যেন আজকে কেমন চুপচাপ। যাই হোক ভালোই হয়েছে এই মেয়ের কথা আমার কাছে বিষের মতো মনে হয়। "" কলেজ গেইটে এসে তাদেরকে নামিয়ে দিলাম। এরপর অফিসে চলে গেলাম। অফিসে ডুকে কাজে মন দিলাম। তখনি একটা পার্সেল আসলো। খুলে দেখলাম ডিবর্স এর কাগজ। আমি সাথে সাথেই আখিকে ফোন দিলাম। ফোন দেওয়ার সাথে সাথেই রিসিভ হলো। "" ওপাশ থেকে আখি বেশ খুশি হয়েই বলল,,আশিক তুমি আমাকে ফোন দিয়েছো? আমার তো বিশ্বাসি হচ্ছে না।☺☺ "" তখন আমি গম্ভীর গলায় বললাম,, কাজ আছে বলেই ফোন দিয়েছি। তানাহলে তোমাকে আমি কখনোই ফোন দিতাম না। আচ্ছা যেই কারণে ফোন দিয়েছি,, তুমিকি একটু দেখা করতে পারবে? আখিঃ কোথায়? আমিঃ তুমি কলেজ গেইটের সামনের ফার্মেসীর কাছে দাড়িয়ে থেকো আর রেণু যেন তুমাকে না দেখে। আখিঃ আচ্ছা। তাই হবে। "" তারপর আমি অফিস থেকে বেরিয়ে আখিকে পিক করে নেই। তাকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে ডুকলাম। আর দুটো কফি অর্ডার করে আখিকে বসতে বললাম। আখির মুখ দেখে মনে হচ্চে অনেক খুশি। তারপর সে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলো,, বলো কি জন্য আমাকে এভাবে লুকিয়ে ডেকেছ। "" তখন আমি ওর দিকে ডিবর্স পেপার, কলম এগিয়ে দিয়ে বললাম,, এই নাও সাইন করে দাও। "" আখি আশ্চর্য হয়ে বললো,, কিসের কাগজ এগুলো? আমিঃ তুমিই দেখে নাও। "" আখি কাগজটা পরে পাথর হয়ে গেছে। ও হয়তো আমার থেকে অন্যকিছু এসপেক্ট করেছিলো। ওর চোখ দিয়ে টপাটপ পানি পড়তে লাগলো। "" তখন আমি বললাম,, কি হলো সাইনটা করে দাও। দেখো আমার কাছে বেশি সময় নেই। "" তখন আখি অশ্রু ভেজা নয়নে বললো,, তুমি আমাকে সত্যিই ডিবর্স দিয়ে দিবে। আমাকে একটা সুযোগও দিবে না। আমাকেকি ক্ষমা করা যায় না?😭😭 "" তখন আমি কিছু বলতে যাবো,, তখনি ওয়েটার কফি নিয়ে হাজির। সে কফিগুলা রেখেই চলে যায়। আমি তখন আখিকে বললাম,, দেখো এখানে এভাবে কান্নাকাটি না করে সাইনটা করে দাও। ব্যাস এইটুকুই। আর কিছু বলতে বা শুনতে আমি এখানে আসিনি। "" আখি নিচের দিকে তাকিয়ে কান্না করতে থাকে। আমার খুবই রাগ হচ্ছে। কিন্তু এখানে আমি কোনোরকম ঝামেলা করতে চাইনা। তাই আমি নিজেকে সামলাতে ওয়াসরুমে চলে আসি। চুখেমুখে পানি দিয়ে ফিরে এসে দেখি আখি নেই আর ডিবর্স পেপারটাতে সাইন করেই চলে গেছে। তাই আমি ওকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য ফোন দিলাম কিন্তু ধরলো না। যাহ না ধরলে নাই আমার কাজ হয়ে গেছে। তাই শন্তি মনে বসে কফিটা শেষ করলাম। কফিটা শেষ করতেই রেণুর ফোন। আমিও খুশি মনে ফোনটা ধরলাম। "" ফোন ধরতেই রেণু বলল,, আমি যেন তাড়াতাড়ি বাড়িতে যাই। "" বাড়িতে পৌছেতেই দেখি আপু আর দুলাভাই আর মা বসে আছে। আমি ওদের আগমনে অনেকটাই অবাক হলাম।এরা এখানে আবার কেন এলো। আমি সামনে এগুতেই রেণু আমাকে বলে উঠলো,, অনুকে তুমি আগে থেকেই চিনতে? "" রেণুর এই প্রশ্নে প্রথমে খুবই অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু পরক্ষণেই বুঝতে পারলাম আমার পরিবারই এই ব্যাপারটা খোলাসা করেছে। আর এটা নিয়ে ভেবেও লাভ নেই। আমিই রেণুকে জানিয়ে দিতাম। আমি এতোদিন শুধু ডিভোর্স এর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। ""তখন আমি বললাম,, হ্যা। তোমার বোন অনুই সেই আখি। যার কথা আমি তোমাদের বলেছিলাম। ""রেণু কঠিন গলাতেই বললো,,তাহলে এতোদিন লুকিয়ে রেখেছিলে কেন? "" তখন আমি বললাম,, কারণ হলো এতোদিন আখির সাথে আমার ডিবোর্সটা হওয়ার অপেক্ষা করছিলাম। কারণ আমার মনে হয়েছিলো ডিবর্সের আগে তুমি ব্যাপারটা জেনে গেলে। আমাকে আর বিয়ে করবে না। কিন্তু এখন ডিবর্সটা হয়ে গেছে। আর আমাদের বিয়েতে কোনো সমস্যাই রবে না। এবার আমরা জলদি বিয়েটা করে ফেলতে পারবো।😊😊 "" তখন রেণু যা বললো আমি যেন আমার কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না। রেণুকে আমাকে বললো,, তুমি কি করে ভাবলে যে আমি এখনো তুমাকে বিয়ে করবো। এটা জানার পরও যে তুমি আমার ছোট বোনের বর। তুমি ভাবলে কি করে যে আমি আমার বোনের সংসার ভেঙ্গে দিয়ে তুমাকে বিয়ে করবো। আমিঃ এসব কি বলছো তুমি। কিসের সংসারের কথা বলছো তুমি। তুমিতো সবটাই জানো। তারপরও এমন করছ কেন। আর এখন আখির সাথে আমার কোনো সম্পর্কই নেই। আমাদের ডিবোর্স হয়ে গেছে। তাহলে এগুলো বলার মানে কি? রেণুঃ না কোনো ভাবেই সম্ভব না। আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারবো না। কারণ অনু তুমাকে এখন ভালোবাসে। আর আমি আমার বোনকে কষ্ট পেতে দেখতে পারবো না। এজন্য তুমি আবার অনুকে মেনে নাও। দেখ অনু ওর ভুলটা বুঝতে পেরেছে। তাই তোমার উচিত ওকে ক্ষমা করে দেওয়া। আমিঃ এসব কি বলছো কি তুমি। তুমি ভালো করেই জানো আমি ওকে কতোটা ঘৃণা করি। আর তাছাড়া আমি তুমাকেই ভালোবাসি। তাই আমি তুমাকেই বিয়ে করতে চাই। রেণুঃ কিন্তু আমি তোমাকে এখন ভালোবাসি না। আর তোমাকে বিয়ে করার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমিঃ দেখো রেণু আমি খুব ভালো করেই জানি তুমি আমাকে কতোটা ভালোবাস। আর তুমি যে এসব আখির জন্য বলছো আমি তা খুব ভলো করেই জানি। আরে তুমিইতো একদিন বলেছিলে যে আমার অতীত নিয়ে তুমি কখনো কোনো রকম প্রশ্ন করবে না। আর আমার সবকিছু জানার পরও আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলে। আর এখন কি হলো। "" রেণু কোনো কথা বলছেনা,, "" তখন আমি বললাম,,দেখো রেণু আখিও আমাদের সম্পর্কটা মেনে নিয়েছে। আর সেইজন্যইতো ডিবোর্স পেপারে সাইন করে দিয়েছে। "" তখন রেণু বললো,, না ও সাইন করেনি। তুমি ওকে জোর করেছিলে। আর এজন্যই ও আত্নহত্যা করতে গিয়েছিলো। আমি ঠিক সময়মতে ওকে না আটকালে আজকে একটা বড় অঘটন ঘটে যেতো। দেখো আমি তোমাকে বিয়ে করলে আমি কোনোদিনও সুখে থাকতে পারবে না। আমার বোনকে কষ্টে রেখে আমি এটা কিছুতেই করতে পারবো না। তাই এটাই ভালো হবে তুমি অনুকে মেনে নাও। আমি আমার পছন্দমতো কাউকে বেছে নেব। তুমিওতো প্রথমে এটাই চেয়েছিলে। আমিঃ দেখো। তখনকার ব্যাপারটা আলাদা ছিলো আর এখন অন্য। এখন আমি তোমাকে ভালোবাসি। আর আমার যদি বিয়ে করতে হয় তাহলে আমি তুমাকেই করবো। আর কাউকে না। "" তুমিকি আমাকে বাচ্চা ভেবেছো নাকি। যে তুমি বললে আর আমি মেনে নিলাম। আমাকে না পেলে তুমি ভালো থাকতে পারবেতো। আমি জানি আমাকে ছারা তুমি আর কাউকে মেনে নিতে পারবে না। তাই আমার সাথে এগুলো বলে কোনো লাভ নেই। "" এরপর রেণু যা বললো তাতে যেন আমার পায়ের নিচের মাটিই সরে গেলো। "" রেণু বললো যে,, আমি জানতাম তুমি এগুলোই বলবে। এইজন্যে এই দেখো,, বলে রেণু আমাকে একটা ছেলেকে দেখালো। এতোক্ষণ এর দিকে খেয়াল করিনি। রেণু ছেলেটাকে দেখিয়ে বললো,, ও হলো আমার বর। আজকেই আমরা বিয়ে করেছি। "" তখন আমি বললাম,, এসব কি বলছো তুমি? আমি এগুলো বিশ্বাস করি না। 😦😦 "" তখনিি রেণু আমার সামনে একটা কাগজ ধরলো। সেই কাগজটা হলো,, রেণু আর রাকিবের (হয়তো ঐ ছেলেটার নাম রাকিব) বিয়ের রেজিস্ট্রি পেপার। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো তাতে সাক্ষী হিসেবে সাইন করেছ আমার নিজের বাবা। "" আমার চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছে। শেষ পর্যন্ত রেণু আমার সাথে এমনটা করলো। আর বাবাই বা এটা কি করে হতে দিলো। তিনিতো জানেন যে রেণুকে আমি কতোটা ভালোবাসি। তাহলে কেন এমনটা করলেন? "" আমি পিছাতে পিছাতে পেছনে থাকা চেয়ারটাতে বসে পড়লাম। আমার চোখ দিয়ে অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে। আমি রেণুকে বলতে চাচ্ছি কেন আমার সাথে এমনটা করলে। কিন্তু আমার মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না। "" ঠিক সেই মুহূর্তে আমার কাটা গায়ে লবণ দিতে আদিবা বলে উঠলো,, দেখ ভাইয়া যেটা হওয়ার সেটা হয়ে গেছে। আখি সত্যিই বদলে গেছে। না হলে তোর জন্য নিজের জীবন দিতে চাইতো না। "" ওর কথাটা আমার শুনে আমার খুব রাগ হলো। কিন্তু তার চেয়েও বেশি রাগ হচ্ছে রেণুর উপর। ও কেন আমার সাথে এমন করলো। আমিতো চলেই যাচ্ছিলাম। রেণুইতো আমাকে আটকালো। তারপর আমি যখন তাকে ভালেবেসে ফেলি তখনি আমার সাথে এমনটা করলো। "" এরপর দেখি রেণুর বাবা হাসিমুখে কাজীকে নিয়ে উপর থেকে নামছে। আর আমার কাছে এসে কাজী কতোগুলো কথা বলতে লাগলো, যেগুলো বিয়ের সময় বলা হয়। আমি আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পরলাম না। ""উঠে গিয়ে রেণুর গালে একটা চর বসিয়ে দিয়ে বললাম,,আমার পরিবার আর আখি আমার সাথে যেটা করেছিলো তাতে আমার এতোটা কষ্ট হয়নি, যতোটা আজকে হচ্ছে। আমি কি এমন অপরাধ করেছিলাম যার জন্য আমার সাথেই এমনটা করলে। তোমরা আমাকে ভেবেছটা কি আমার কোনো ভালো লাগা খারাপ লাগা নেই। ""অবশ্য ঠিকই । আমার এসবে অভ্যেস হয়ে গেছে। বিশ্বাস করো আমার না একটুও কষ্ট হচ্চে না। "" তারপর শান্ত গলায় বললাম,, ভালো থেকো! "" কথাটা বলেই আমি দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসতে যাব। তখন বাবা আমার পথ আটকালেন। তখন আমি তাকে বললাম,, আমি সবসময় ভাবতাম আপনি আমাকে বুঝেন।কিন্তু আজ সেটাও ভুল প্রমাণিত হলো। 🔥🔥🔥 ""এরপর হাত দিয়ে চোখের পানি মুছার বৃথা চেষ্টা করতে করতে আশিক রেণুদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। পিছন থেকে কেউ কেউ হয়তো আশিককে ডাকছিলো। কিন্তু আশিকের আর কারো কথা শোনার ইচ্ছা ফুরিয়ে গেছে। "" ওখান থেকে বেরিয়ে আশিক রাস্তা ধরে হাটতে হাটতে রেলস্টেশনে চলে আসে। তার চোখ দিয়ে জল পড়া থামছেই না। এরপর টিকেট কাউন্টারের সামনে একটা লাইনে সে দাড়িয়ে পরে। তখন কেউ তাকে জিজ্ঞেস করছিলো,, যে কোথায় যাবেন? কেথাকার টিকিট দেবো? "" আশিক লোকটার চেচামেচিতে বাস্তবে ফিরে। "" লোকটা আবারও বললো,, আরে ভাই যাবেন কোথায়?😑 "" কো-কোথায় যাবো,,, (আসলে আশিক কোথায় যাবে সে নিজেই তো জানেনা) "" কাউন্টারের লোকটা বেশ বিরক্ত হয়ে যায়। আর বললো,, আরে যানতো এখান থেকে। কোথা থেকে যে এসব চলে আসে।কে জানে? শুধু শুধু আমার এতোটা সময় নষ্ট করলো। "" আশিক যে লোকটাকে সরি বলবে সেই অবস্থাতেও নেই। তাই সে ধীরে ধীরে পিছিয়ে আসে। আর পাশে থাকা প্লাটফর্মের বেঞ্ঝে বসে পরে। "" তখন কে জেন আশিকের নাম ধরে ডাকছে। আশিক প্রথমে খেয়াল করেনি। যখন লোকটা তার সামনে এসে দাড়ালো তখন আশিক অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। আশিকের চোখের জল পরার গতি যেন আরও বেরে গেলো। চলবে.....
diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.