লালপরী

গল্পঃ লালপরী লেখকঃ মো আাসদ রহমান(অচেনা পরীর বয়ফ্রেন্ড) ঠিকানাঃঝিনাইদহ,কোটচাঁদপুর মোবাইলঃ০১৭১১৯৪৪২৫৬ গল্পটি একটু বড়ো ধৈর্য্য ধরে পড়লে অাশা করি ভালো লাগবে --এই রিকসা সামনে যাবে? --কই যাবেন মামা? --সামনে বাস স্টান্ড পর্যন্ত। --হুম যাবো উঠেন। --মামা মনে হচ্ছে আপনি বিয়ের তেঁলায় নিয়ে যাচ্ছেন? --হুম ঠিক বলেছো। --তা কোন গ্রামে যাবেন? --এইতো.... গ্রামে। --মামা গ্রামতো অনেক দূর যেতে তো সন্ধা হয়ে যাবে। --হুম সেটাই তো চিন্তায় ফেলে দিচ্ছে। --এতো দূরের রাস্তা আরো আগে রওনা দিতে পারতেন? --আর বলোনা মামা এই তেঁলায়ের বাজার করতে গিয়ে দেরি হয়ে গেছে। --মামা বাস স্টান্ডে চলে আসছি নামেন। --হুম। বাস স্টান্ডে এসে অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি কিন্তু বাস আসার কোনো খবর নাই। একে বাড়ি থেকে দেরি করে বের হয়ছি তারপরে বাসের জন্য লেট করতে হচ্ছে যাষ্ট ডিজগাষ্টিং! আমি শুভ অনার্স প্রথম বর্ষে রাষ্টবিজ্ঞান নিয়ে পড়ছি। বড় ভাইয়ের বিয়ের তেঁলায় নিয়ে আমাকে পাঠায়ছে ভাবিদের বাড়িতে। ভাবিদের বাড়ি একেতে অনেকদূর তারপরে বাড়ি থেকে বের হতে লেট হয়ে গেলো কখন যে গিয়ে পৌছাবো আল্লাই ভালো জানে!এইতো বাসের দেখা মিলছে দ্রুত উঠতে হবে নয়লে বাস মিস করলে আজ আর বিয়ে বাড়ি যাওয়া হবে না! আমি তেঁলায়ের বাজার গুলো বক্সে রেখে বাসে গিয়ে উঠি। বাসের ভিতরে অনেক যাত্রী তাই চাপাচাপি করে যেতে হচ্ছে।আমি সিট না পেয়ে ইঞ্জিন কভারের উপরে গিয়ে বসি। কিছুক্ষণ পরে অন্য স্টান্ডে গিয়ে অনেকেই নেমে পড়ে তাই আমি একটা সিটে গিয়ে বসি।এই স্টান্ড থেকেও অনেক যাত্রী উঠে তাই মূহর্তের মধ্যে আবারো বাসে মানুষের চাপাচাপি শুরু হয়ে যায়। আমি কানের ভিতরে ইয়ারফোন লাগিয়ে গান শুনছিলাম হঠাৎ করে বাস ব্রেক ধরাতে হুরমুড়িয়ে একটা মেয়ে আমার উপর এসে পড়ে।আমি মেয়েটার দিকে তাঁকিয়ে চোখ ফেরাতে পারছিলাম না। আমার মনে হচ্ছিল সর্গ থেকে সাক্ষাত কোনো পরী ভুল করে মর্তে চলে এসেছে।কি সুন্দর সেই মুখের অবয়ব। মনে হয় তার চেহারার মাঝে চাঁদের সব উষ্ণ অাবিরাত জমে আছে। চাঁদের মতো নিষ্পাপ এক কলঙ্কহীন রুপ যার দিকে তাঁকিয়ে হাজার বছর র্নিঘুম স্বপ্ন যোজনা করে কাঁটিয়ে দেওয়া যায়। যেমন রুপের ছড়াছড়ি তেমনি দীঘল কালো কেস মায়াবী দুটি চোখ আমাকে পাগল করে দেয়।আমি অস্ফুট দৃষ্টিতে শুধু ঐ চোখের দিকে তাঁকিয়ে থাকি। আমি অপরিচিতার রুপে আমার মরন খুজে পাই।আমার হৃদয়ের কড়িঢোরে এক উষ্ণ বাতাস মনকে দোলা দিয়ে যায়। আর মনের মধ্যে ভালোবাসা ভালোলাগার স্বপ্ন এঁকে যায়। অপরিচিতার মাঝে নিজেকে খুজে নিয়ে আমি যখন স্বপ্ন ডাঙায় উড়ে বেড়াচ্ছি তখনি অপরিচিতার মিষ্টি মধুর সুরের ঝংকারে বাস্তবে ফিরে আসি। --এই যে মিষ্টার আর কতক্ষণ এভাবে ধরে রাখবেন হুম এবার তো ছাড়েন? --ও আচ্ছা সরি আমি ঠিক বুঝতে পারিনি। --হুম এখনতো এমন ভাব করবেন জেনো ভজা মাছটা উল্টিয়ে খেতে পারেন না! --আসলে আমি সত্যিই বুঝতে পারিনাই যে আপনাকে ধরে আছি। --আমি আপনাদের মতো ছেলেদের খুব ভালো করেই চিনি মেয়ে দেখলেই বদমাইশি করা ছাড়া আর কোনো কাজকাম নাই! যত্তসব! --আপনি ভুল ভাবছেন আমি সেরকম ছেলে না। --তা মিষ্টার আপনি কি রকম ছেলে শুনি? --না মানে আমি ভদ্র ছেলে সেটা মা বলে। --আরে আমার ভদ্র ছেলেরে! উনি ভদ্র না ছাই একটা অপরিচিত মেয়ের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাঁকিয়ে থাকে আবার বলে ভদ্র! --কই আমি আবার কার দিকে তাঁকালাম? --এই মিষ্টার আপনি তো ভালোই কথা ঘুরাতে পারেন দেখছি! আমার দিকে এতক্ষণ ভ্যাবলাক্রান্তের মতো তাঁকিয়ে থেকে এখনি অস্বীকার করছেন? --আপনি আমার উপর এসে পড়লেন বলেই তাঁকায়ছি। --আমি পড়ছি তাই বলে আপনি তাকাবেন কেনো আমি কি আপনারে তাঁকাতে বলছি? --তা বলেন নাই তারপরেও এমন সুন্দর একটা পরী যদি চোখের সামনে থাকে তাইলে না তাঁকিয়ে থাকা যায়! --এই যে মিষ্টার পরী মানে কে পরী? --আপনি পরী আর আপনাকে এই লাল ড্রেসে একদম লাল পরীর মতো লাগছে। --আপনি নিজেকে খুব চালাক মনে করেন তাই না? --কি বলছেন তা মনে করবো কেনো? --আমি মনে হয় কিছু বুঝিনা নাহ্! আমার প্রশংসা করা তারপরে আমার নাম নাম্বার চাবেন তারপরে সময় বুঝে প্রপোজ করে দিবেন সেই মতলব না? --আরে আপনি ভুল বুঝছেন আমার তেমন মতলব নাই। --তাইলে কেমন মতলব শুনি? --কেনো মতলব নাই তবে এতক্ষন ধরে কথা বলছি যদি নামটা বলতেন তাইলে পরিচিত হওয়া যেতো আর কি। --এইতো আমাকে পটানোর মতলব শুরু করছেন।আমি আপনারে চিনিনা জানিনা সো আমার নাম জেনে কি করবেন হুম? --কিছুই করবোনা পরিচিত হতাম আর কি। --আপনার সাথে আমার পরিচিত হবার কেনো ইচ্ছা নাই --কেনো সমষ্যা আছে নাকি? --আছে কি নাই সেটা আপনাকে বলতে যাবো কেনো? --ভাব্বা এতো দেমাগ! --দেখুন মুখ সামলিয়ে কথা বলবেন নয়লে কিন্তু বেশি ভালো হবেনা! --আপনি রাগছেন কেনো আমি তো এমনি বললাম। --আপনি আমার সাথে আর কথা বলবেনা! যত্তসব!! আমার উপর রাগ করে মুখ ফুলিয়ে বালিকা একটু দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আমি বসে বসে বালিকার সৌন্দর্য অবলোকন করতে থাকি।যেমন রুপের ছড়াছড়ি তেমন কথার মাধুর্য। আমার মন ভাবে আর বলে ওগো সুন্দরী ওগো বালিকা আমি তোমায় খুজি প্রতিবেলা। তোমার ঐই মনের মাঝে বিচরন করতে চাই। আমাকে তোমার মনের কড়িঢোরে একটু বসত করার সুযোগ দেবে।আমি তোমার ভালোবাসার উষ্ণ আবিরাতে হারিয়ে যেতে চাই অামার মনের স্বপ্নরানী অপরিচিতাকে দেখতে এতটাই সুন্দর লাগছে যে কিছুতেই দুচোখ ফিরিয়ে নিতে আমি পারছিনে। আমার মনে অপরিচিত বালিকার চাঁদবদন খানি মুখ,লম্বা দীঘল কালো কেশ,কাজল কালো আঁখি তারপরে লাল থ্রিপিচে একদম লালপরীর মতো লাগছে অপরিচিতার দেহের প্রতিটা রন্ধে রন্ধেই সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। তাই মন চাইলেও বালিকার উপর থেকে চোখ ফিরিয়ে নিতে পারছিনে।আমার চোখ দুটিও জেনো শুধু তাকেই দেখতে চাই। আমি অপরিচিত বালিকার রুপের সুধা পানে করতে করতে গৌন্তব্যের পথপানে ছুটে চলি। আমি সামনের স্টান্ডে গিয়ে নেমে পড়ি।অপরিচিতাকেও দেখলাম নামতে কিন্তু মূহর্তের মধ্যে কোথায় যে হারিয়ে গেলো বুঝতে পারলামনা। আমি সময় নষ্ট না করে দ্রুত ভাবিদের বাড়ির দিকে চলতে শুরু করি। প্রায় সন্ধা হয়ে গেছে এখনও ভাবিদের বাড়ি পৌছাতে পারলাম না। আমি সন্ধার পরে ভাবিদের বাড়ি গিয়ে পৌছায়। আমি সেখানে গিয়ে পড়ি আরেক বিপদে সবাই রং দিয়ে শার্ট প্যান্ট একদম লেপ্টে দেয়। আমার সারা শরির মূহর্তের মধ্যে রংচঙা হয়ে যায়।আমি রং থেকে আড়াল হতে যত চাচ্ছি তই সুন্দর কিউট কিউট রমনীরা এসে ঘিরে ধরে! একেকটার থেকে একেকটা সুন্দরী দেখতে তাই আমি চুপ করে সুন্দরীদের নরম হাতের ছোয়ায় রংয়ের মাঝে আবদ্ধ হতে থাকি।আর হঠাৎ করে একটা কিউট ময়দা সুন্দরী এসে বলে; --এইযে কিউট বেয়াই এখন না এসে যদি বিকালবেলা আসতা তাইলে রংয়ের মধ্যে চুবায়ে গোসল করাতাম। --আল্লাই বাঁচাইছে যে সন্ধার সময় আসছি।[মনে মনে] --কি হলো বিয়াই চুপ করে আছেন কেনো? --না মানে এত্তগুলা ময়দা সুন্দরিদের মাঝে কি বলবো সেটা ঠিক বুঝতে পারছিনে। --কিহ্ তারমনে আমরা সবাই ময়দা সুন্দরী? --হুম তা নয়তো কি সবগুলা অাটা ময়দা মেখে একদম পেন্তীর মতো হয়ে গেছো। --এই তোরা এখনো চুপ করে আছিস কেনো আমাদের বাড়ি প্রথম এসেই আমাদের পেন্তী বানিয়ে দিলো! --এই ময়দা সুন্দরির কথা শেষ হবার আগেই সবাই আমারে ধাক্কা দিয়া কাঁদার ভিতরে ফেলে দিয়াই কাঁদা খেলাতে মেতে উঠে।অনেকক্ষণ অামার উপর দিয়া ঝড় ঝাপটা যায় শুধু ময়দা সুন্দরি বলার জন্য। আমি ফ্রেস হয়ে ভাবির সাথে দেখা করতে ভাবির রুমে চলে যায়। --হাই ভাবি কেমন আছো? --হুম ভালো আছি দেবরজান! তুমি কেমন আছো? --এইতো আছি কোনোরকম। --কোনো আবার কি হলো দেবরটার? --কি আর হবে একদল ময়দা সুন্দরি পেন্তীর দল রং দিয়া আমার বারোটা বাজায়ে ফেলছে। --হা হা হা তাই নাকি? --হুম তাই। --বিয়ে বাড়ি আসলে এমন একটু সহ্য করতেই হবে। --আমি বুঝছি তুমিও ঐই পেন্তীদের দলে। --কে বলেছে আমি আমার এই কিউট দেবরটার দলে। --কি বিয়ে না হতেই আমাদের ছেড়ে দেবরের দলে চলে গেলি?[পেন্তীর প্রধান] --তা যাবোনা আমার একটা মাত্র দেবর। --হুম যা ভালো করে যা। --মেঘলা তুই তোর বিয়াইরে মেহেদি পড়ায়ে দে। --হুহ্ আমার বয়েই গেছে তোর এই ফাজিল দেবরেরে মেহেদি পড়ায়ে দিতে।(মেঘলা) --ভাবি থাক আমি মেহেদি পড়বোনা তাছাড়া এইরকম পেন্তীদের কাছে আমি মেহেদি পরিনা। --ঐই কি বললেন আমি পেন্তী? --তো কি এতো মেকাপ করলে পেন্তী ছাড়া কি বলবো? --আমি মোটেও মেকাপ করিনাই আমি এমনিতে অনেক সুন্দর সেটা সবাই বলে। --হুট উনি নাকি সুন্দর! তাইলে দেশের সব সুন্দরীরা যে মাঠে মারা যাবে। --এই তোরা ঝগড়া থামাবি?[ভাবি] --তোর দেবর ঝগড়া করছে সেটা দেখিসনা আমাকে কেনো শুধু বলছো? --তোদের দুইজনকেই বলছি ঝগড়া থামাতে। --হুম এখন তো দেবরের পক্ষ্য নিবাই। --মেঘলা তুই বেশি কথা না বলে শুভরে মেহেদী পরায়ে দেতো। --ভাবি আমি তোমার কাছে মেহেদী পড়বো তবুও এই পেন্তীটার হাতে মেহেদী পড়বোনা। --আপু দেখছো আবার পেন্তী বললো? আর এই পেন্তীর হাতে তোকে মেহেদী পড়তেই হবে। --নাহ্ আমি পড়বোনা। --কোনো কথা হবেনা আমার হাতেই মেহেদি পড়তে হবে --আমার কথায় আর কাজ হয়নি তাই মেঘলার হাতেই মেহেদী পড়তে হয়। সবার সাথে গল্প গুজব করে গান শুনে আনন্দ করতে করতে অনেক রাত হয়ে যায়। আমাকে শোবার জন্য রুম দেখিয়ে দেওয়া হয়। আমি রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ি আর তাতে জার্নি&হৈহুল্যরে ক্লান্ত শরিরে খুব দ্রুত ঘুম চলে আশে। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে মেঘলা ও আরো অনেক সুন্দরীদের সাথে বসে বসে আড্ডা দিচ্ছি ঠিক তখনি কোথাথেকে জেনো হঠাৎ করে আমার সেই লালপরী আমার দুচোখের স্বপ্ন আমার এই হৃদয়ে প্রথম ভালোলাগা ভালোবাসার মানবী প্রিয় অপরিচিতার ঐই পাগল করা রুপের দর্শন পাই।অপরিচিতা মনে হচ্ছে যে আমাদের দিকে আসছে।আমি অপরিচিতার দিকে তো অবাক দৃষ্টিতে হ্যাঁ করে তাঁকিয়ে আছি। কি সুন্দর হেলে দুলে সামনের দিকে আসছে। অপরিচিতার লম্বা কালো কেশগুলো বাতাসের মিছিলে বারবার উড়ে যাচ্ছে আর তা ঠিক করতে সদা ব্যস্থ হয়ে পড়ছে।আহ্ দেখতে ঠিক চাঁদ কন্যার মতো মনে হচ্ছে। আমার ইচ্ছে হচ্ছে দুই হাত দিয়ে অপরিচিতার কোমল গাল ছুয়ে দিয়ে লম্বা চুলের ঘ্রাণ নিতে।আমি অপরিচিতার পানে তাঁকিয়ে থেকে স্বপ্ন যোজনা করতে ব্যাতিব্যস্থ ঠিক তখনি মেঘলার কন্ঠতে স্বপ্ন পথের ইতি টানি! --সাদিয়া আপু কেমন আছো। --হুম ভালো আছি! তোমরা সবাই কেমন আছো? --ভালো আছি।[এক সাথে] --আমি চুপ করে বসে ওদের সবকথা শুনছি। আমাকে মনে হয় বালিকা এখনো দেখেনি তাই ওদের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে। আমার প্রেয়সীর নাম সাদিয়া সেটা শুনে ঠোটের কিনারায় এক চিলতে হাসি ফুটে উঠে। --মেঘলা আপু তোমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেই মিম আপুর দেবর শুভ।[আমায় দেখিয়ে] --হাই আমি শুভ।[হাত বাড়িয়ে] --হ্যালো আমি সাদিয়া।[অবাক হয়ে] --কেমন আছেন আর কখন আসলেন? --হুম ভালো আর এইমাত্রই আসলাম। --আচ্ছা ভালো থাকলেই ভালো। --আচ্ছা আপনি মেঘলাদের সাথে গল্প করেন আমি যায় গিয়ে মিমের সাথে দেখা করে আশি। --হুম ঠিক আছে। --মেঘলা আমি গেলাম মিমের সাথে দেখা করতে। --আচ্ছা ঠিক আছে যাও। --আমার দিকে আবার এক পলক রাগি দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে চোখগুলো বড়বড় করে তারপর সাদিয়া চলে যায়। তাই আমরা আবারো হেসে হেসে গল্প করা শুরু করে দেই। আমরা গল্প করছিলাম তখন ভাবির রুম থেকে আমার ডাক আশে তাইতো মেঘলাকে নিয়ে চলে যায়। আমাকে ভাবির সাথে খেতে দেওয়া হয়। আমি মেঘলাকে জোড় করে আমাদের সাথে খেতে বাধ্য করি।আমি খাচ্ছি আর আঁড় চোখে সাদিয়ার দিকে তাকাচ্ছি। সাদিয়া দুই চোখ বড়বড় করে বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছে আর রাগে ফুসছে। আমি সেদিকে খেয়াল না করে মেঘলার সাথে আরো হাসাহাসি করতে শুরু করি। আমি সবার আগে খাওয়া শেষ করে বাইরে এসে একটা চেয়ারে বসে আছি তখন মনে হয় কেউ একজন চেয়ার টেনে পাশে বসলো।আমি পাশে তাঁকিয়ে অবাক না হয়ে পারিনা তার কারন সাদিয়া চেয়ার টেনে আমার একদম পাশে এসে বসেছে। যে মেয়ে বাসের মধ্যে আমার সাথে রাগ দেখিয়ে কত কথা বললো সে কিনা এখন আমার পাশে এসে বসেছে ভাবতেই কেমন লাগছে। --কি হলো মিষ্টার চুপ করে আছেন কেনো? --কি বলবো? --কিছুই বলার নাই? বাসে বকবক করতে করতে মাথা তো একদম ধরিয়ে ফেলছিলেন। --আপনিতো আপনার সাথে কথা বলতে নিষেধ করে দিছেন! --আচ্ছা তার জন্য এখনো বুঝি রাগ করে আছেন? --আপনি কে যে আমি রাগ করবো! --আমি বাসের আচরনের জন্য সরি! আসলে মাথাটা খুব গরম হয়ে গেছিলো তাই অমন ব্যবহার করছি! --আরে আপনি কেনো সরি বলছেন আমার আপনার কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত অপরিচিত একটা মেয়েকে ডিষ্টার্ব করার জন্য! --আচ্ছা ডিষ্টার্ব করলে শাস্থি পেতে হয় সেটা নিশ্চয় জানেন? --হুম জানি! বলেন কি শাস্থি পেতে হবে? --আমাকে আপনি নাহ্ তুমি করে বলতে হবে এটাই বড় শাস্থি। --হুম বুঝলাম বাট এই শাস্থি দেবার মানেটা কি? --মানে কি সেটা সময় হলে ঠিক জানতে পারবে। --আচ্ছা তাই সময় হলে ঠিক জানতে পারবো? --০১৯২০৪১**** কারো লাগলে নিতে পারে। --মানে কার নাম্বার এটা আর আমাকেই বা শুনাচ্ছো কেনো হুম? --এই তুমি এতো মানে মানে করো কেনো হুম? --এত্তগুলা সারপ্রাইজ একসাথে পাচ্ছিতো তাই আর কি --সারপ্রাইজ মানে? --এই যে তুমি এসে কথা বলছো আবার নাম্বার দিচ্ছো। --কই তোমারে নাম্বার দিচ্ছি আমিতো এমনিতেই বলছি! --আচ্ছা তাই বুঝি। --হুম ঠিক তাই। --আচ্ছা তোমার কাছে মেঘলার নাম্বার আছে? --কেনো কেনো মেঘলার নাম্বার দিয়া তুমি কি করবা? --তেমন কিছু করবোনা মাঝে মাঝে মন খারাপ থাকলে কথা বলতাম আর কি! --আমার নাম্বার নেও মন খারাপ কেনো যখন মন চাইবে তখন কথা বলতে পারবে। --তুমি তো আর নাম্বার দিবেনা তাই যদি মেঘলার নাম্বার দিতা ভালো হতো। --কে বলছে আমি নাম্বার দিবোনা! নাম্বার না দিলে কি তোমার সামনে বলতাম। --কি জানি আমি এতোকিছু বুঝিনা। --হুম আর বুঝতেও হবেনা। আর শোনো মেঘলার সাথে এতো হেসে কথা বলতে জেনো না দেখি আর! --কেনো বললে সমষ্যা কি? --সমষ্যা কি তোমার মাথা! যেটা বলেছি সেটা করবে এতো বেশি কথা বলবেনা। --আচ্ছা ঠিক আছে। --আর শোনো তুমি তো এই গ্রামের কোনকিছু দেখোনি চলে গ্রাম দেখতে যাই। --হুম চলো বাট তারাতারি আসতে হবে কিন্তু তা না হলে এদিকে বিয়ে হয়ে যাবে আর আমরা ওদিকে গ্রাম ঘুরেই বেড়াচ্ছি।  --ঠিক আছে তারাতারি চলে আসবো। আমি আর সাদিয়া গ্রাম ঘুরতে চলে যায়। অনেকক্ষণ ঘুরাঘুরি করে বাড়ি চলে আশি। বাড়ি এসে ফ্রেস হয়ে নেই। আর একটু বরযাত্রীর দল চলে আসলেই বিয়ের কাজ শুরু হয়ে যায়।বিয়ে পড়ানো হয়ে গেলে সবাইকে খেতে দেওয়া হয়। সবার খাওয়া শেষ হলে কনে বিদায় এর জন্য তোরজোড় শুরু হয়ে যায় কারন আমাদের বাড়ি দূরে!তাই আগে আগে রওনা হতে হবে। আমি বরযাত্রীর সাথে দাঁড়িয়ে গল্প করছি তখনি ছোট একটা পিচ্চিকে দিয়ে সাদিয়া আমাকে ডেকে পাঠায়। তাই আমি সাদিয়ার সাথে দেখা করতে চলে যায়। --কি ব্যাপার বরযাত্রীদের পেয়ে আমাকে একদম ভুলেই গেছে মনে হচ্ছে। --আরে কি যে বলোনাে তোমাকে কখনো ভুলা যায়। --হুম সেটাতো ভালো করেই দেখছি। --কি জন্য ডাকা হয়েছে সেটা কি জানতে পারি? --তোমার কিছুই জানতে হবেনা শুধু ফোনটা দিয়ে এখন বিদায় হও তো। --শুধু ফোন নিবে আমাকে নিলে হয়না? --সময় হলে তোমাকেই আগে নিবো। --আচ্ছা আমি সেই সময়ের অপেক্ষাতে থাকবো। --ফোন দেওয়া শেষ এবার জনাব আপনি জান। --আরেকটু থেকে যায়না! --নাহ্ থাকলেই তুমি মেয়েদের দিকে নজর দিবা। --হুম ঠিক বলছো এতক্ষণ এইটাতো মাথায় আসেনি। --কি বল্লা তুমি আরেকবার বলো?আর দাঁড়াও তোমারে আমি লুচুগীরি করা বেড় করছি।[রাগি লুকে] --আমি আর কিছু না বলে সেখান থেকে চলে আশি। সবশেষ এবার কনে বিদায়ের পালা সবাই কান্না করছে ভাবি তো কাঁদতে কাঁদতে একদম প্রায় অঙ্গান হবারি মতো অবস্থা। সবাই কাঁদছে সাথে দেখি সাদিয়ার চোখে ও পানি। বরযাত্রী সবাই গাড়িতে উঠে গেলে পরে আমি গিয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসি। আমি গিয়ে মেঘলার কাছ থেকে বিদায় চাইলে আমার ফোন নাম্বার চাই।আমি নাম্বার বলবো বলে হ্যা করেছি তখনি সাদিয়া সামনে এসে বলে; --কি হলো বিয়াই দাঁড়িয়ে রইলেন কেনো তারাতারি যান গাড়ি ছেড়ে দিবে মনে হচ্ছে। --হুম এখনি যাচ্ছি। --কি হলো তোমারে নাম্বার দিতে বলেছিনা?[মেঘলা) --মেঘলা কার নাম্বার চাইছিস রে?[সাদিয়া] --কার আবার আমাদের বিয়াইের নাম্বার। --তুই নাম্বার দিয়ে কি করবি? --কি আর করবো মাঝে মাঝে খোজখবর নিবো। --আমার কাছে নাম্বার আছে পরে নিয়ে নিস। --বিয়াই তুমি দেওতো। --০১৭৭১৩৭**** নাম্বার দিয়ে সাদিয়ার দিকে তাঁকিয়ে দেখি রাগে দাঁত কটকট করছে! --ধন্যবাদ বিয়াই। --ভালো থেকো আসি তাহলে। --তুমিও ভালো থেকো। আমি মেঘলার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সাদিয়ার কাছে গিয়ে বলি; --আমার ফোন কই বাড়ি যেতে হবে তো? --এই তুমি মেঘলারে নাম্বার দিলা কেনো? --কি করবো বারবার চাচ্ছে তাই দিছি। --এই নাও তোমার ফোন। আর শুনো মেঘলা যদি ফোন দেই তাইলে বেশি কথা বলবানা কিন্তু বলেদিলাম। --হুম ঠিক আছে বলবোনা। --সাবধানে দেখে শুনে বাড়ি যাবা আর বাড়ি পৌছে তুমি আমারে ফোন দিবা মনে থাকে জেনো। --হুম ঠিক আছে বাট তোমার নাম্বার তো আমার কাছে নাই ফোন দিবো কিভাবে? --আরে হাদারাম আমি তোমার ফোনে আমার নাম্বারটা সেভ করে দিছি দেখো। --আচ্ছা ঠিক আছে ফোন দিবানে এখন তাইলে আসি। --আচ্ছা যাও বাই। --বাই। আমি সাদিয়ার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠে পড়ি। আমরা বউ নিয়ে সন্ধার একটু আগে বাড়ি এসে পৌছায়। বাড়ি এসে বিভিন্ন কাজে ব্যাস্থ হয়ে পড়ি তাই সাদিয়াকে আর ফোন দেওয়া হয়ে উঠেনি। সব কাজ শেষ করে রাত ১১টার সময় সাদিয়াকে ফোন দেই। --হ্যালো কি করছো? --এইতো শুয়ে আছি তুমি কি করছো? --হুম আমিও শুয়ে আছি। --আমার কথা তাইলে এতক্ষণে মনে পড়লো? --আরে বলোনা বাড়ি এসে বিভিন্ন কাজে আঁটকে পড়ি তাই তোমাকে ফোন দিতে পারিনি। --আচ্ছা ঠিক আছে রাতে খাইছো? --হুম খাইছি তুমি? --হুম আমিও খাইছি। --আচ্ছা কালকে কথা হবে বাই। --ওকে বাই। আজ সারাদিন বিয়ে বাড়ির ঝামেলা তারপরে জার্নি করে এসে খুব ক্লান্ত লাগছে তাই তারাতারি শুয়ে পড়ি। আর শুয়ে পড়াতে খুব দ্রুত ঘুম চলে আশে।সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করেই কিছুক্ষণ সাদিয়ার সাথে কথা বলে নেই।আর তারপরে ভাবিদের সাথে বসে আড্ডা দিয়ে সময় কাঁটিয়ে দেই বিকেলে আবার সাদিয়া ফোন করে অনেকক্ষণ কথা বলে। সাদিয়ার সঙ্গে কথা বলেই প্রায় সময় কাঁটিয়ে দেই। আমার মনে হয় সাদিয়া আমাকে পছন্দ করে তাই কালকে ভাবিকে যখন নিতে আসবে তখনি প্রপোজ করার মনস্থির করে ফেলি এতে যা হবার তাই হবে। সময় থাকতে ভালোলাগার মানুষকে মনের কথা না বলতে পারলে কে কখন চোকের সামনে থেকে নিয়ে চলে যাবে তার ঠিক নাই তাই যত দ্রুত বলা যায় ততই ভালো। আর তাই আমি সাদিয়াকে হারানোর মতো কোনো রিস্কি নিতে চাইনা বলেই মনের কথা দ্রুত বলে দিবো। আমি রাতে খেয়ে দেয়ে বিছানায় শরিরটা এলিয়ে দিতে সাদিয়ার ফোন এসে হাজির; --হ্যালো কি করছো? --এইতো শুয়ে আছি তুমি কি করো? --আমিও কেবল খাওয়া শেষ করে শুলাম। --আমার না ভালো লাগছেনা শুধু তোমাকে দেখতে মন চাচ্ছে। --এটা আবার কেমন কথা হঠাৎ আমাকে দেখতে মন চাচ্ছে কেনো বলা যাবে? --কেনো মন চাচ্ছে সেটাতো বলতে পারবোনা তবে খুব দেখতে মন চাচ্ছে। --কেবল কালকে আমাকে দেখলে আজ আবার দেখতে মন চাচ্ছে? --হুম তুমি ভিডিও কল দেওনা তোমাকে একটু দেখি। --এতোরাত করে দেখতে হবেনা কালকে যখন আমাদের বাড়ি আসবে তখন যতক্ষণ মন চাই দেখে নিয়ো। --তারমানে তুমি ভিডিও কল দেবেনা? --আমার ফোনে MB নাই তাই তো বলছি কালকে দেখো --হুম এখন আমি দেখতে চাইছি বলেই MB নাই। --সত্যি বলছি একটু আগেই শেষ হয়ে গেছে। --তোমাকে যখন দেখতেই পারবোনা তাইলে তোমার সাথে কোনো কথা নাই ফোন রাখলাম আমি। --আমাকে আর কোনো কথা না বলতে দিয়ে ফোনটা কেটে দেই। আমি অনেকবার ট্রাই করি প্রতিবার ফোন বন্ধ দেখায় তারমানে রাগ করে ফোন বন্ধ করে রেখেছে তাই আমি আর ট্রাই না করে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে ঘুম থেকে উঠে আব্বুর সাথে বাজার করতে চলে যায়।আমরা বাজার থেকে এসে মেহমানদের জন্য রান্নাবান্না শুরু করে দেই। আমাদের সবকিছু গোছগাছ হয়ে গেলে তখন ভাবিকে নিতে মেহমানরা চলে আশে। আমি মেহমানদের বাড়ির ভিতরে আঁগিয়ে আনতে যায়। ভাবিকে নিতে সাদিয়াও এসেছে আর আমি সাদিয়াকে দেখে আজ আবারো নতুন করে প্রেমে পড়ে যায়। আজ সাদিয়াকে লাল শাড়িতে খুব সুন্দর লাগছে। আমি শুধু অবাক নয়নে মুগ্ধ দৃষ্টিতে সাদিয়ার দিকে তাঁকিয়ে আছি সাদিয়াকে লাল শাড়ি,মেসিং করা ব্লাউজ, মুখে হালাকা মেকাপ,ঠোটে লাল লিপিষ্টিকে অপরুপ সুন্দরী লাগছে। আর তার সাথে লম্বা কালো কেশগুলো সৌন্দর্যের এক নতুন মাত্রা তৈরি করেছে।হালকা বাতাসের মিছিলে ঐই দীঘল কালো কেশগুলো উড়ে চলে তখন আরো মোহনি মনে হয়। আমার দুচোখ পলকহীন দৃষ্টিতে সাদিয়া রুপি পরীকে দেখাতে মজে যায়। তাই সাদিয়াকে নিয়ে স্বপ্নের ছোট্র কুঁড়েঘর তৈরির স্বপ্ন আঁকতে শুরু করে। আমার ভাবনার বাঁধন ছিন্ন হয় সাদিয়ার মিষ্টি মধুর কন্ঠের সুরে --এইযে এভাবে শুধু হ্যাঁ করে তাঁকিয়ে থাকলেই হবে আমাদের বাড়ির ভিতরে নিবেনা? --হুম অবস্যই চলো ভিতরে চলো।[লজ্জা পেয়ে] --থাক তোমাকে আর লজ্জা পেতে হবেনা। --না মানে তোমাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে তাইতো তোমার উপর থেকে চোখ দুটো ফিরাতে পারছিলাম না। --তাই বুঝি আমাকে এত সুন্দর লাগছে। --হুম সত্যি বলছি। --আমার মতো এর আগে আর কত জনকে তার রুপের প্রশংসা করে পটাইছো হুম? --কি যে বলোনা কাকে আবার পটালাম জীবনে প্রথম তোমাকে এত ভালো লাগলো তাই তাকায়ে ছিলাম। --থাক তোমাকে আর আমার রুপের প্রশংসা করতে হবেনা ভিতরে চলো। --হুম চলো। আমি সবাইকে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যায়। সবাই ভাবির সাথে দেখা করতে চলে যায়। আমি ভাবির রুমে সবার জন্য নাস্তা নিয়ে যায়।আমি নাস্তা দিয়ে চলে আসছিলাম কিন্তু সাদিয়া জোড় করে ওদের সাথে নাস্তা করতে বাধ্য করে। আমি নাস্তা শেষ করে বাইরে বেড়িয়ে আসি তখন সাদিয়াও আমার পিছন পিছন রুম থেকে চলে আসে। --কি ব্যাপার তুমি আমার পিছন পিছন চলে অাসলে? --আমার ঘড়ে বসে থাকতে ভালো লাগছেনা চলো গ্রাম ঘুরে দেখে আসি। --কিহ্ পাগলের মতো কথা বলছো তোমার বাড়ির কেউ দেখলে কি মনে করবে বলোতো? --কে কি মনে করলো সেটা দেখার সময় নাই তুমি চলো। --আরে খাওয়া দাওয়া করে পরে গেলে হয়না? --তুমি এখন যাবা কিনা বলো?[রাগ দেখিয়ে] --আরে রাগ করছো কেনো আমি কি মানা করেছি নাকি --হুম ভালো ছেলের মতো চলো। --আচ্ছা যাওয়ার আগে আম্মুর কাছে একটু বলে আসি নয়লে শুধু শুধু টেনশন করবেনে। --হুম আমিও মিমের কাছে বলে আশি। আমি আর সাদিয়া গ্রামের মেঠো পথ ধরে হেঁটে চলেছি। আমার পাশে এমন সুন্দরী একটা মেয়েকে দেখে সবাই কেমন অবাক দৃষ্টিতে তাঁকাচ্ছে।আমরা সেদিকে খেয়াল না করে দুজনে হেঁটে চলেছি গ্রামের পথ ধরে। আমার খুব পছন্দের জায়গা নদীর পাশের খোলা বিস্তৃতি খোলা মাঠ যা প্রকৃতির অবারিত সৌন্দর্যে ভরপুর। আমার এই রকম পরিবেশ খুব ভালো লাগে তাই সাদিয়াকে নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। আমি একটা নৌকা নিয়ে সাদিয়াকে নিয়ে নদীর মাঝে ভেসে চলি।নদীতে মৃদু বাতাসে কারনে সাদিয়ার লম্বা কালো কেশগুলো বারেবার মুখের সামনে চলে আসছে। আর সাদিয়া চুলগুলো সরাচ্ছে এই রুপে ওকে অনেক মোহনিয় লাগছিলো তাই এক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাঁকিয়ে থাকি। --কি হলো এমন করে কি দেখছো? --তোমাকে দেখছি!  --কেনো আগে মনে হয় আমাকে দেখোনি? --দেখেছি তবে আজকে অনেক বেশি সুন্দর লাগছে। --তার মানে এর আগে সুন্দর লাগিনি না? --আরে রাগ করছো কেনো তুমি অলটাইম সুন্দর যার কোনো তুলনা হয়না। --তাই আমি এতই দেখতে সুন্দর? --হুম একদম আমার মনের মতো দেখতে। --তা আমাকে তোমার মনের মধ্যে একটু জায়গা দিলে হয় না! --আমার মনের মধ্যে তুমি থেকে কি করবে? --কি করবো তোমাকে সবসময় দেখবো আর ভালোবাস দিয়ে নিজের কাছে আগলিয়ে রাখবো।[আসতে করে] --কি বললে ঠিক বুঝতে পারলামনা! --তোমার আর বুঝে কাজ নেই। --আমার না একটা মেয়েকে খুব ভালালাগে কিন্তু কি করে মেয়েটাকে মনের কথা বললবো বুঝতে পারছিনে! --মানে তুমি কাকে ভালোবাসো আর আমাকে আগে কেনো বলোনি?[করুন কন্ঠে] --আগে তুমি কখনো জানতে চাওনি তাই বলিনি। --তোমাদের সব ছেলেদের এই ১টা দোষ ভালোবাসবে একজনকে আর টাইমপাস করবে অন্য মেয়েদের সাথে --কিহ্ বলছো আমি আবার কার সাথে টাইমপাস করি! --দেখো একদম ন্যাকা সাজবানা!তুমি ভালোবাসো অন্য মেয়েকে আর আমার সাথে টাইমপাস করছোনা। --আরে আমার পুরা কথাটা একবার শুনবাতো? --আমি তোমার কোনো কথা শুনতে চাইনা! তোমাকে খুব ভালো মনে করেছিলাম কিন্তু তুমিও সেই একি!আর আমি বাড়ি যাবো আমাকে নদীর তীরে নিয়ে চলো। --আরে একবার আমার কথাটা তো শুনবা? --আমায় তীরে নিয়ে চলো নয়লে কিন্তু আমি চিল্লাচিল্লি করে মানুষ জড়ো করবো বলেদিলাম। --আমি আর কোনো কথা না বলে নৌকা নদীর তীরে নিয়ে আসি। নৌকা তীরে আসতে সাদিয়া দ্রুত নেমে চলে যেতে শুরু করে। আমার মনে হচ্ছিল সাদিয়া কাঁদছে তাই আমি নৌকা রেখে দৌড়ে সাদিয়ার কাছে চলে যায়। আমি যা ভেবেছিলাম ঠিক সেটাই মহারানী কাঁন্নাকাঁটি করে চোখ আর নাকের জল এক করে ফেলতেছে। সাদিয়ার চোখে পানি দেখে আমার খুব খারাপ লাগতে শুরু করে তাই পিছন দিক থেকে হাত টেনে ধরে বলি; --আমাকে একা করে কই যাও? --আমার হাত ছাড়ো! আমার মন যেখানে চাই সেখানেই যাবো তাতে তোমার কি? --আমারি তো হবে কারন আমি যেই মেয়েটাকে ভালো বাসি সে যে আর কেউ না এই লালপরীটা! --মানে তুমি মিথ্যা কথা বলছো তুমি আমাকে না কোনো এক মেয়েকে ভালোবাসো![অভিমান করে] --আমি এই পাগলিটারেই শুধু ভালোবাসি! --কিন্তু আমি তো আর তোমাকে ভালোবাসিনা! --আচ্ছা তুমি যখন আমাকে আর ভালোবাসবানা তখন দেখি মেঘলাকে পটাতে পারিকিনা! আর এমনিতে মনে হয় মেঘলা আমাকে পছন্দ করে। --ঐই কি বললি তুই এখান থেকে এক গিয়ে দেখ আমি তোর পা একদম ভেঙ্গে ফেলবো![কলার ধরে] --তুমিই তো আর ভালোবাসবানা তাইলে না গিয়েই বা কি করবো বলো? --ঐই তুইকি আমারে প্রপোজ করছিস যে তোরে আমি ভালোবাসবো? আর এখন ভালোই ভালো প্রপোজ কর নয়লে তোর খবর আছে। --আমি তো প্রপোজ করতে পারিনা তুমিই করোনা! --ঐই বেশি কথা না বলে প্রপোজ কর! আর শোনো যদি ভালো করে প্রপোজ করতে না পারিসনা তাইলে কিন্তু আমি ফিরিয়ে দিবো বলেদিলাম। --আমি নদীর পাশ থেকে কাঁশফুল ছিড়ে সাদিয়ার ঠিক সামনে হাঁটুগেঁড়ে বলি; ওগো সুন্দরী আমার মনপ্রিয়াসি তোমাকে ভালোবাসি!  তোমাকে আপন করে আমার এ মনের ছোট্র কুড়েঁঘড়ে যতন করে রাখতে চাই দিবানিশি! তোমাকে ভালোবাসি সেই প্রথম দেখায়! তোমাকে নিয়ে ভাবতে ভালো লাগে! আমি আমার পথের শেষ বিন্দুতে তোমার হাতটি ধরে পথ চলতে চাই! তুমি হবেকি আমার পথের সাথী!আমি খুব বেশি ভালোবাসি তোমায়! আমি তোমাতে নিজেকে হারিয়ে নতুন করে বাঁচতে চাই!হবেকি আমার নুতুন পথ এর সঙ্গী!কথা দিচ্ছি কখনো ছেড়ে যাবোনা সারাজীবন ভালোবেসে এই বুকে আঁগলিয়ে রাখবো! আমি তোমায় ভালোবেসে তোমাতে হারাতে চাই I Love You... --আমিও তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি সেই প্রথম দিন থেকেই। তাই তোমাকে ভালোবেসে সারাজীবন এই হাত দুটি আঁকড়িয়ে ধরে বাঁচতে চাই।[জড়িয়ে ধরে] --হুম পাগলি সারাজীবন শুধু তোমাকেই ভালোবেসে যাবো কখনো এই বুক থেকে দূরে সরে যেতে দিবোনা। --হুম তুমি চাইলেও তো আমি তোমার বুকের আড়াল হবোনা!  --তাই বুঝি এতটা ভালোবাসো আমাকে? --হুম অনেক বেশি ভালোবাসি এই পাগলটারে! --তুমি আমারে ভালোবাসো সেটা আগে বলোনি কেনো? --আমি মেয়ে হয়ে আগে বলবো কেনো তাছাড়া সেদিন যখন বাসে আমার দিকে ভ্যাবলাক্রান্তের তাঁকিয়ে ছিলে তখনি বুঝে গেছি তুমি আমাকে ভালোবাসো। আমারও প্রথম দেখাতে অনেক ভালো লেগে যায়। আর তোমার সাথে রাগ করে যখন অন্যদিকে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম তখন তুমিতো আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে ছিলে যা দেখে আমার খুব হাসি পাচ্ছিলো।আর যখন তোমায় বিয়ে বাড়িতে দেখলাম তখনতো পুরাই অবাক হয়ে যায় আর তারপরে তোমার কাছাকাছি এসে তোমাকে আমি আমার প্রেমের ফাঁদে ফেললাম যার জন্য আজকে তুমি প্রপোজ করলে আমাকে। --আচ্ছা পেটে পেটে এতবুদ্ধি তাইলে?আচ্ছা ঠিক আছে আমি আমার প্রপোজ ফিরায়ে নিলাম! আমি তোমারে না মেঘলারে ভালোবাসি। --কি বললি তুই আরেকবার বলে দেখ তোরে আমি কি অবস্থা করি![রাগি কন্ঠে কলার ধরে] --আরে কি করছো কলার ছাড়ো! --আগে বল তুই কাকে ভালোবাসিস? --আমি শুধু এই আমার লালপরীটাকেই ভালোবাসি। --হুম ঠিক আছে এবার একটু জড়িয়ে ধরোতো। --আচ্ছা ধরছি আমার লালপরী।[জড়িয়ে ধরে] --ঠিক আছে এমন করে সারাজীবন জড়িয়ে রাখবে।  --হুম রাখবো বাট তোমার শরিরটা না অনেক নরম মনে চাই একটু আদর করতে।[দুষ্টামি করে] --কি বললি হারামজাদা?[বুকের উপর কিল ঘুশি দিয়ে] --হুম সত্যিই বলছি।[দৌড় দিয়ে] --আজ দাঁড়াও তোমার মজা দেখাচ্ছি।[পিছনে দৌড়ে] --আমি সাদিয়ার হাত বাঁচার জন্য দৌড়াতে শুরু করি আর সাদিয়াও আমার পিছন পিছন দৌড়াতে শুরু করে পৃথিবীর সব লেখকের কলমের কালি হয়তো থেমে যায় একসময় এমন হাজারো প্রেমের কাহীনি সৃষ্টিতে! কিন্তু শুভ আর সাদিয়ার মতো দুষ্টু মিষ্টি প্রেমের সংলাপ ছুটে চলে নিরবধি যা কখনো শেষ হয়না! পথের শেষ প্রান্তো থেকেও রচিত হয় হাজারো নতুন নতুন প্রেম কাহীনি..। (10) -------(সমাপ্ত)-------

Berlangganan via Email