Recents in Beach

প্রিয়জন -৪

প্রিয়জন - ৪ 💙 ঘুমানোর আগে ফ্রেশ হতে গেলাম।এসে দেখি নীল কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত করছে ফোনে।আমি চুল আচড়াচ্ছিলাম আর শুনছিলাম। সুস্পষ্ট এবং ঝরঝরা তেলাওয়াত।মন চাই শুনেই যায়।ছেলেদের ভারী কন্ঠে কুরআন তেলাওয়াত যেন বেশিই মধুর হয়। পড়া শেষ করে নীল বলল, হাদীস শুনবা? আমি বললাম-হুম, অবশ্যই। ও শুরু করলো, আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কুরআন মজীদে তিরিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা আছে, যা তার তিলাওয়াতকারীর জন্য শাফাআত করবে, শেষে তাকে ক্ষমা করা হবে। তা হলো : তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল “মুলক” (সূরা মুলক)। [৩১১৮] সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৭৮৬ আরেকটা শুনো.... জাবির (রাঃ)হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরা তানযীলুস সাজদা ও তাবারাকা (আল-মুলক) না পাঠ করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ২১৫৫), সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ৫৮৫), রাওযুন নাযীর (হাঃ ২২৭)। জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩৪০৪ আমি বললাম সুবহানআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার। নীল- এই টা আজকেই জানলাম।মসজিদে আমীর সাহেব বলছিলেন।তাই আমল করলাম। আমি- মা শা আল্লাহ। আমিও আমল করব ইং শা আল্লাহ আজকে তো অনেক ঘুম পাচ্ছে আমার। নীল- ওকে,ঘুমিয়ে যাও। আমি বিছানার মাঝখানে অদৃশ্য দাগ কেটে বললাম।এইখানে বিপদজনক রেখা টেনে দিলাম।এই রেখা অতিক্রম করার চেষ্টা করবানা ভুলেও।তাহলে খবর আছে তোমার। নীল- আর যদি তুমি করো? আমি - করলে করবো।কি সমস্যা?আমার বরই তো।পর তো কেউ না। নীল- নিজের বেলায় ১৬ আনা,অন্যের বেলায় শূন্য। আমি- হি হি হি নীল- কথার ছলে হলেও স্বীকার তো করলা আমি তোমার বর। আমি দাঁত দিয়ে জিভ কাটলাম।ভুলেই গেছিলাম... ঘুমালাম আমি,শুভরাত্রি। নীল- বলছি তোমার হাতটা একটু দিবা? আমি অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে বললাম- কেন কি করবা? নীল- হাতটা একটু চাইলেও যদি কৈফিয়ত দেওয়া লাগে,থাক তাহলে লাগবে না। বুঝলাম, পাগলটা অভিমান করতেছে। তাই শোয়া থেকেই ওর দিকে ডান হাতটা বাড়িয়ে দিলাম। নীল আমার হাতটা ওর বুকের উপর নিয়ে শুয়ে হাতের আঙ্গুলে তাসবীহ পাঠ করছে। ব্যাপারটা আমার কাছে বর্ণনাতীত ভাবে ভালো লাগলো। তারপর কখন যে ঘুমিয়ে গেছি বুঝতে পারিনি।কিন্তু যখন ঘুম ভাঙলো আজকেও দেখি আমি নীলের হাতের উপর মাথা দিয়ে আছি। বুঝলাম না আমার শোয়া তো এত বাজে নয়।তাহলে কিভাবে আসি ওর কাছে? নাকি ও আমাকে নিজের কাছে টেনে নেয়। এটা একটা রহস্য... যায়হোক মনে হলো,নীল জাগনা আছে তাই চোখ বন্ধ করে থাকলাম।অনুভব করলাম নীল আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।মুখের উপরের চুলগুলা সরিয়ে দিচ্ছে। নাহ এইভাবে আর বেশিক্ষণ থাকা যাবে না,এই ছেলেকে ভরসা পাচ্ছি না।যদি কোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলে। আমি একটু এক্টিং করলাম যেন এখনি ঘুম ভাঙলো আমার। নীল দ্রত আমাকে ছেড়ে দিয়ে অন্যদিকে ফিরে শুইলো। আমার হাসি পাচ্ছিলো প্রচুর।বাট চুপ থাকলাম। একটুপর আজান দিলো,ও উঠে নামাজে গেলো।আমিও নামাজ পরে নিলাম। * দুপুরে গোসল পরে,আয়নার সামনে দাড়িয়ে আছি।আর ভাবছি আমি কি নীলের প্রতি দূর্বল হয়ে যাচ্ছি। আমার কি ওকে ভালোবাসা উচিৎ? এসব ভাবতে ভাবতে কখন আনমনা হয়ে গেছি বুঝিনি। হঠাৎ নীল চোখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে বলছে কি ব্যাপার মহারানী কোন জগৎ এ আছেন? আমি- ভাবছি তুমি তো ইদানিং অনেক ভালো হয়ে গেছো।আমার সাথে ঝগড়া করো না তো আর। নীল যে হাসিটা দিলো সেটা দেখ মনে হয় একটা হার্টবিট মিস করে গেলাম। আচ্ছা শোনো না, নীল- হুম বলো... আমি- বানিজ্য মেলায় নিয়ে যাবা আমায়? নীল- নাহ,এইসব মেলায় টেলায় যায়তে হয় না।বিশেষ করে মেয়েদের।নারীপুরুষের সংমিশ্রণ এক ধরনের ফিতনা।ফিতনা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ আছে। আমি- আমি তো বোরখা পরে যাবো,তুমি বললে হাত পা মোজাও পরব। নীল- বোরখা পরলেই হারাম জিনিশ টা হালাল হয়ে যায় না বুঝলা। তোমার কি লাগবে বলিও আমি এনে দিব। আমি- কিছুই লাগবে না।এমনিতে দেখতে ইচ্ছে করছিলো তাই। নীল- এখন থেকে এমন ইচ্ছে গুলো বাদ দিও। আমি- হুম,সেটাই ভাবছি.... প্রথমে একটু রাগ হচ্ছিলো,তারপর ভাবলাম হয়তো বেকার স্বামী, হাতে টাকা নাই বলে নিয়ে যেতে চাইছে না। কিন্তু না উনি তো ধার্মিক হয়ে গেছেন অনেক দেখছি। আর এ বিষয়ে কথা বললাম না। * সেদিন ভোরে ঘুম হালকা ভাঙতেই হাতগুলা কেমন ভারী ভারী লাগছে,হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি দু হাত ভর্তি লাল নীল কাঁচের চুড়ি। তারপর যখন বেডে থেকে নামতে যাচ্ছি দেখি দুপায়ে নুপুর পরানো। অসম্ভব ভালোলাগা নিয়ে আয়নার সামনে দাড়ালাম।কপালের লাল টিপটা জানান দিচ্ছে পাগলটা কতটা ভালোবাসে।কিন্তু তিনি কই..... নীলের সামনে পরীক্ষা তাই হয়তো নীচে ওর রুমে চলে গেছে।দেখি ফোনটা রেখে গেছে।ফোনের নিচে একটা চিরকুট। ফোনটা আজই প্রথম হাতে নিলাম ওর পিক দেখব বলে। গ্যালারীতে ঢুকে মাথা খারাপ অবস্থা। লুকিয়ে লুকিয়ে কয়েকশ ছবি তুলেছে আমার।ঘুমন্ত পিকও বাদ দেয়নি।এমনকি গত রাতেও চুড়ি টিপ পরিয়ে পিক তুলে নিয়েছে।ভাগ্যিস ফোনটা রেখে গেছিলো.. নয়তো পাগলামি ফাঁস হতো না। বড্ড হাসি পাচ্ছে আমার।তারপর চিরকুট টা খুলে দেখলাম কি লেখা... পাগলি বউ, নামাজ পড়ে নিও।আর আজকে তো শুক্রবার।সূরা কাহাফ পড়িও। আবূ সা‘ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা আল কাহাফ পড়বে, তার (ঈমানের) নূর এ জুমাহ্ হতে আগামী জুমাহ্ পর্যন্ত চমকাতে থাকবে। (বায়হাক্বী- দা‘ওয়াতুল কাবীর)[১] মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ২১৭৫ * আমি ফ্রেশ হয়ে নীচে গেলাম। দেখি পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে গেছে। বিরক্ত করবনা বলে ফোনটা পাশে রেখে আম্মুর কাছে চলে গেলাম। হুম যাওয়ার আগে ওনার ঘুমন্ত কয়টা পিক তুললাম,হি হি হি প্রতিশোধ বলে কথা। একদিন সকালে দেখি নীল রেডি হয়েছে। আমি- কোথাও যাচ্ছো? নীল- হুমম আমি- কোথায়? নীল বেডে আমার পাশে এসে বসলো।তারপর দুইহাত আমার গালে রেখে বলছে, অফিসে যাচ্ছি, একটা পার্ট টাইম জব নিছি। আমি- তোমার না সামনে পরীক্ষা... নীল- সমস্যা নাই ম্যানেজ করে নিতে পারব।আর শুনো আব্বু আম্মুকে কিছু বলিও না এখন।শুনলে রাগ করবে।আসলে এতোদিন তো বেকার বসেই ছিলাম।কিন্তু ইসলামে এভাবে বসে বসে খাওয়ার নিয়ম নাই।পুরুষ মানুষকে অবশ্যই কাজ করতে হবে,পরিবারের ভরণপোষনের দায়িত্ব আল্লাহ পুরুষ মানুষকে দিয়েছেন। আজকে সত্যি আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না।এতোটা দায়িত্ববান, ধার্মিক ছেলেকে কতই না কষ্ট দিয়েছি। নীলকে জড়িয়ে ধরে ভ্যা ভ্যা করে কান্না শুরু করে দিয়েছি। আমি- প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিও।আমি তোমাকে ভুল বুঝে অনেক কষ্ট দিয়েছি। নীল- আরে পাগলি,ঠিক আছে।আমি কিছু মনে করিনি।সবসময় তোমার জন্য দোয়া করেছি।আমি জানতাম তুমি একদিন আমাকে আপন করে নিবে।যতদিনই টাইম লাগুক আমাকে ধৈর্যশীল হিসেবেই পাইতে।তো,এখন আমার অফিসে দেরী হয়ে যাবে,পারলে এখন কিছু খাওয়ার ব্যবস্থা করো। আমি- I love you...💜 নীল- yes!!, I love you tooo♥ দীর্ঘ ৬ বছর অতিবাহিত হয়েছে..... জীবনটা যতোটা পেরেছি সাজিয়ে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। হয়তো অনেক বেশি ইনকাম নাই আমাদের,কিন্তু স্বল্প হালাল ইনকামেও আমরা অনেক সুখে আছি আলহামদুলিল্লাহ। ভালোবাসার কমতি নাই। আজকে আমার জমজ ছেলেরা মাদ্রাসা থেকে বাড়ি আসবে। আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান।(৫ বছর) নীল অফিস থেকে ফেরার পথে ওদের নিয়ে আসবে। এদিকে আমি ছেলেদের পছন্দের আইটেম রান্না করে,এখন মেয়ে আয়েশাকে হিজাব পরানো শিখাচ্ছি। আমি - আম্মুজি যাও তোমার দাদিমা আর দাদুকে দেখিয়ে আসো। দুই বছরের আয়েশা ছুটলো দাদুর ঘরে।বাবার মতই দূরন্তপনা। টিং টং,টিং টং ওই বুঝি ওরা চলে আসলো..... আসছি, দাড়াও.... (দোয়া চাই আমার পরিবারের জন্য) সমাপ্তি ✌✌✌ #লেখিকা- সূর্যস্পশ্যা তনয়া (লেখিকার কিছু কথা: গল্পটার ধারাবাহিক চাহিদা থাকা সত্বেও শেষ করার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।কারণ দাম্পত্য জীবনের গল্পের কোনো শেষ হয় না।দাম্পত্য জীবনের প্রতিটা দিনই একেকটা নতুন গল্প।প্রতিদিনই স্বামী স্ত্রী নতুনভাবে দুজন দুজনের প্রেমে পড়ে।আল্লাহর নির্ধারিত হালাল বন্ধন বলে কথা।তবে মাঝে মাঝে শয়তান অশান্তি ডেকে আনে।এ সময় অবশ্যই ধৈর্যধারণ করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে।একে অপরের পাশে থাকতে হবে।আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে চলার তাওফিক দিন।)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ