মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০১৯

ছেলে ও মেয়ে টা

লিকলিকে শরীরের সদা হাস্সোজ্জল ছেলেটা সবসময় একটা আনসিরিয়াস ভাব নিয়েই থাকে৷ সবকিছুতেই উদাসীন৷ বন্ধুদের সাথে ফাইযলামী করতে তার জুড়িঁ নেই৷ আর লেখাপড়াইতো আরো চরম অবস্থা৷ মানে বই নিয়ে বসছে কখন ? তার নিজেরই মনে নেই৷ এই নিয়ে তার আম্মুর অভিযোগের শেষ নেই৷ আম্মুরকথাগুলো এই কান দিয়ে ঢুকাইতো, আর এক কান দিয়ে বের করে দেয়৷ আর নিজের হোক আর বাসার হোক , কোনোকাজই নিজ থেকে করেছে৷ এরকম সে বলতেই পারবে না৷ মানে একটা হাদাঁরাম হতে হলে যতগুণ থাকা চাই, তার সবগুণ ছেলেটার মধ্যে বিদ্যমান৷ বরং আরও একটু বেশীই আছে৷ এবার মেয়েটার কথায় আসি”-প্রথমত মেয়েটার গালে টোল পড়ে৷ গালগুলো দেখলেই টানতে ইচ্ছে করবে যে কারো৷ পাগলি টাইপের একটা মেয়ে৷ নিজেকে সবসময় গুরুত্তহীন মানুষ মনে করে৷ সবসময় ডিপ্রেশনে ভুগে৷ মেয়েটার ফ্রেন্ডও তেমন নেই৷ নেই বলতে মেয়েটাইবন্ধুদের সাথে সম্পর্ক রাখেনি৷ কারণ সবাই মেয়েটাকে ইউস করে৷ আর মেয়েতো নয় , যেন অসুখের ডিব্বা৷ এই অসুখ, সেই অসুখ৷ আর নিজের প্রতি কোনো খেয়ালই নেই৷ আজকে দরজার সাথে ধাক্ক্া খাইছে তো, কালকে ছাদ থেকে নামার সময় ব্যাথা পাইছে৷ এগুলো মেয়েটার সাথে লেগেই থাকবে৷ -জুকার মামার বদৌলতে এই আনসিরিয়াস ছেলে আর আনকেয়ারিং মেয়েটার বন্ধুত্ত হয়ে যায়৷ ছেলেটা কিন্তু ভার্চুয়ালের সম্পর্কগুলো মোটেই বিশ্বাস করতোনা৷ এর পিছনে অনেক কারন ও আছে৷ মেয়েটা বিশ্বাস করতো কিনা জানি না? তবে কেমন করে জানি? বন্ধুত্তটা হয়েই গেলো৷ ছেলেটা যেহেতু প্রথমেই জেনেছে মেয়ে তার ২বছরের জুনিয়র৷ তাই সে মেয়েটাকে তুই করেই বলতো৷ আর মেয়েটা প্রথমে তুমি, তারপর শেষমেষ বায়না ধরে তুই করে ডাকে৷ -রিয়েল লাইফে আনসিরিয়াস ছেলেটা ,এই আনকেয়ারিং মেয়েটাকে সবসময় আগলে রাখার চেষ্টা করে৷ জানেনা সে আদৌ আগলে রাখতে পারবে কি, পারবেনা? যেমনঃমেয়েটা ঔষধ না খেলেই, ছেলেটা তাকে বকা দিবে৷ তারপর মেয়েটা বকা খেয়ে ঠোঁটগুলো ফুলিয়েবলবে৷ তুই শুধু আমাকে বকা দিস হুহ৷ আর মেয়েটার কথা শুনে ছেলেটা মনে মনে মুচকি হেসে বলবে৷ আচ্ছা যা আর বকবোনা৷ তোর যা ইচ্ছা কর৷ তবে একটু সাবধানে চলবি৷ আমি আর তোকে বকা দিবনা৷ তারপর ছেলেটার কথা শুনে মেয়েটা আবার বলবে৷ তুই বকা দিবি না ক্যান? অবশ্যই দিবি৷ তোর বকাগুলো শুনতে আমার খুউউউব ভালো লাগে!” -মেয়েটার কিছু হলেই সে ছেলেটাকে বলবে, জানিস আজকে আমি দরজার সাথে ধাক্কা খাইছি৷ আর মেয়েটার কথা শুনে ছেলেটাও একটু করে বকে দেয়৷ আর মেয়েটা সবসময় নিজেকে নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগে৷ আর বলে, এই আমি মোটা, আমাকে কেউ বিয়ে করবেনা৷ এই হইছে, সেই হইছে৷ এগুলা নিয়েই খালি চিন্তা করবে৷ আর সারাক্ষণ টেনশনে থাকে৷ আর বলে, তুই আমাকে ভুলে যাবি না তো? আর ছেলেটা নির্ভয় দিয়ে বলে৷ হুরর, ভুলবো কেন? আমারে নিয়েটেনশন করিস না তুই৷ -ছেলেটা সবসময় মেয়েটাকে হাসিঁখুশি দেখতে চাই৷সাহস দেয় সবকিছুতে৷ ছেলেটা অসুস্থ্য থাকলেও মেয়েটাকে জানাই না৷ কারণ মেয়েটা নিজেই অসুস্থ্য৷ তখন আবার টেনশন করবে৷ ছেলেটা যখন মেয়েটাকে খুব কেয়ার করার চেষ্টা করে৷ মাঝে মাঝে এই কেয়ারটাকেই মেয়েটা তার প্রতি করুণা বলে ধরে নেয়৷ তখন ছেলেটার খুউউউব কষ্ট লাগে৷ -তারা মাঝে মাঝে ফোনে কথা বলে৷ ছেলেটা অবশ্য অত গুছিয়ে কথা বলতে পারে না৷ কারণ উনি মেয়েদের সাথে ফোনে তেমন একটা কথাই বলেন না৷ ফোনে কথা বলার সময় ,ছেলেটার কন্ঠটা নাকি মুরব্বি মুরব্বি লাগে হি হি৷ আর মেয়েটা খুউউবমিষ্টি করে কথা বলে৷ ছেলেটাও খুব চেষ্টা করে৷সুন্দর করে কথা বলার৷ কিন্তু পারে না তো৷ তাই ছেলেটা তেমন একটা ফোন দেয় না৷ -ছেলেটা আর মেয়েটার মাঝে অনেক দূরত্ব৷ দুইজন প্রায় দুই প্রান্তে৷ তারপরও একদিন না একদিন তারা দেখা করবেই৷ আর ছেলেটার খুব ইচ্ছা৷ যেদিন দেখা হবে, সেদিন মেয়েটার গালগুলো সে খুবকরে টেনে দিবে হি হি৷ আর মেয়েটার সাথে সারাদিন ঘুরবে৷ আর ছেলেটা মাঝে মাঝে খুব করে ভাবে, যে মেয়েটা কি তাকে মনে রাখবে? হয়তো হ্যা,অথবা না৷ কিন্তু তাতে কী? অতকিছু ভেবে লাভ কী? যতদিন সাথে আছে, ততদিন সে মেয়েটার পাশে থেকে সাহস জুগিয়ে যাবে৷ হয়তো ৮-১০টা ভার্চুয়াল সম্পর্কের মত তাদের সম্পর্কটাও ভেঙে যাবে৷ নয়তো ভার্চুয়ালের সম্পর্ক টাকে ঠিকিয়ে রেখে, সবকিছু বুড়োঁ আঙূল দেখিয়ে বলবে, ভার্চুয়াল হোক আর রিয়েল হোক, আত্না দিয়ে গড়া সম্পর্কগুলো সহজে ভাঙা যায় না৷ ” -কিছু কিছু জিনিস আছে৷ যেগুলো বলে কয়ে হয় না৷ আপনাআপনিই হয়ে যায়৷ আর সম্পর্কগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে৷ শুধু সম্পর্ক হলেই হয় নি, সম্পর্কগুলোকে শুশ্রুষা করা লাগে৷ নয়ত বৃষ্টির পানি নয়, কুয়াশার ফোটাঁ পড়লেই সম্পর্ক গুলো ফেটেঁ পরে৷আর পক্ষান্তরে সম্পর্কগুলির প্রতি একটু দায়িত্তশীল হলেই, কোয়াশা বা বৃষ্টি নয়, বন্যারতোড়েঁও সম্পর্কগুলো পিরামিডের মতই দাঁড়িয়ে থাকে৷