কালিগঞ্জ উপজেলা / Kaliganj Upazila

Kaliganj Upazila, Jhenidaha ভৌগোলিক অবস্থান : ৩০৩.৫৩ বর্গ কি: মি: আয়তনের কালিগঞ্জ উপজেলা উত্তরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা, দক্ষিণে যশোর সদর ও চুয়াডাঙ্গা উপজেলা, পূর্বে শালিখা ও বাঘেরপাড়া উপজেলা, পশ্চিমে কোটচাঁদপুর ও চৌগাছা উপজেলা দ্বারা বেষ্টিত। প্রধান নদ-নদী ও বিল-বাওড় : নদ-নদীর মধ্যে রয়েছে চিত্রা, ভৈরব ও বেগাবতী। উল্লেখযোগ্য বিলগুলো হচ্ছে উত্তর (মাগুরা-টাট্টিপুর), দীঘার, আরুয়া সালভা এবং তেতুল বিল। বাওড়ের মধ্যে রয়েছে মোর্জাত, সারজাত, সাকো, বারফা এবং সিমলা। শহরের আয়তন ও জনসংখ্যা তথ্য : কালিগঞ্জ শহর ৯টি ওয়ার্ড এবং ২০টি মহল্লা নিয়ে গঠিত। শহরের আয়তন ১৬.৪৯ বর্গ কি: মি:। শহরের মোট জনসংখ্যা ৩৬৭৭৯। এর মধ্যে পুরুষ ৫৩৫১% এবং মহিলা ৪৬.৪৯%। প্রতি বর্গ কি: মি: এ জনসংখ্যার ঘনত্ব ২২৩০ জন। শহরের অধিবাসীদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৪৩.৯%। প্রশাসন : ১৮৬৩ সালে কালিগঞ্জ থানা স্থাপিত হয় এবং ১৯৮৩ সালে এটি উপজেলায় পরিণত হয়। ১টি পৌরসভা, ৯টি ওয়ার্ড, ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ১৮৮টি মৌজা এবং ২১৪টি গ্রাম নিয়ে এই উপজেলা গঠিত। স্থাপত্য নির্দশন ও পুরার্কীতি : কালীগঞ্জ সদর উপজেলা হতে ৬ কি: মি: পুর্বে বেথুলি সুইতলায় ২৫০ বছরের প্রাচীন বটগাছ রয়েছে। এটি এশিয়ার সবচেয়ে বড় বটগাছ হিসেবে পরিচিত। এই উপজেলার বারবাজারে সুলতানী আমলে অনেক স্থাপত্য নির্দশন আবিস্কৃত হইয়াছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গোড়ার মসজিদ, জোড় বাংলা মসজিদ, জোড় বাংলা দিঘী (নবম শতাব্দী), গলাকাটা মসজিদ, মনোহর মসজিদ. নুনগোলা মসজিদ, পীর পুকুর জামে মসজিদ, চোরাগদানী মসজিদ, সাতগাতিয়া মসজিদ, শুক্কুর মল্লিক মসজিদ, বজেদিহি মসজিদ। এছাড়াও রয়েছে ঘোপের ঢিবি এবং গাজীর ঢিবি। প্রাচীন দিঘী (পুকুর) গুলোর মধ্যে রাজমাতার দিঘী, সওদাগর দিঘী, পীর পুকুর, মীরের পুকুর, ঘোড়ামারি পুকুর, চেরাগদানি পুকুর, পাঁচপীর দিঘী, জালদালা দিঘী ও শ্রীরাম রাজার দিঘী। শ্রীরাম রাজার দিঘীর দক্ষিণ তীরে গাজী, কালু ও চম্পাবতীর পাশাপাশি কবর অবস্থিত। ঐতিহাসিক ঘটনা : বারোবাজার (প্রাচীন নাম গঙ্গাদিঘী) ভারতের একটি বিখ্যাত বন্দর ছিল। এই বন্দর দিয়ে প্রবাল ও মসলিন রপ্তানী হতো। ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল মশিহাটি গ্রামের মান্দারতলায় পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর প্রায় ১০০ সদস্য এবং মুক্তিযোদ্ধা ২০ সদস্য নিহত হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হঠে যায় এবং পরের দিন দুলালমুদিয়ায় আশ্রয় নেয়। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী পিছন দিক থেকে এদের হামলা করে ১৫০ থেকে ২০০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে। জনসংখ্যা : মোট জনসংখ্যা ২১৯১২৬। এর মধ্যে পুরুষ ৫১.৭৬%, মহিলা ৪৮.২৪%, মুসলমান ৮১.৪৬%, হিন্দু ১৮.২৫%, বৌদ্ধ ০.০২% এবং খৃষ্টান ০.০২৭%। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান : মসজিদ ২৮৮টি, মন্দির ৭৫টি এবং গীর্জা ৪টি। সাক্ষরতা : গড় সাক্ষরতা ২৯.৭%, পুরম্নষ ৩১.০৭% এবং মহিলা ২১.০৬%। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : কলেজ ৪টি, মাধ্যমিক স্কুল ৪০টি, মাদ্রাসা ১০টি, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৬টি, বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৬টি, স্বল্প খরচের প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬টি এবং স্যাটেলাইট প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬টি। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট হাইস্কুল (১৮৮২), বারবাজার হাইস্কুল (১৯৩৭), কালিগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯০৫), রায়গ্রাম বানিকান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯২০), মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রী কলেজ, পঞ্চকাউনিয়া হাইস্কুল এবং কোলা হাইস্কুল। স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত সংবাদপত্র এবং সাময়িকী : দৈনিক নবচিত্র। সাংস্কৃতিক সংগঠন : ক্লাব ১টি, সামাজিক এবং সংস্কৃতিক সংগঠন ২৯টি, এতিমখানা ৩টি, সিনেমা হল ১টি এবং মহিলা সমিতি ১টি। প্রধান পেশা : কৃষি ৪২.৭৮%, কৃষি মজুর ২৪.৬৪%, মজুর শ্রমিক ৩.০৮%, শিল্প কারখানা ১.৩৯%, পরিবহন ২.৮৭%, ব্যবসা বাণিজ্য ১২.২৮%, চাকুরী ৫.৭৯% এবং অন্যান্য ৭.১৭%। ব্যবহৃত ভূমি : মোট জমি ৩০৩৫৪.৭৬ হেক্টর। একক ফসলী জমি ১৪%, দ্বিফসলী জমি ৫৬% এবং ত্রিফসলী জমি ৩০%। সেচের আওতায় চাষযোগ্য জমি ৫১%। ভূমি নিয়ন্ত্রণ : কৃষকদের মধ্যে ভুমিহীন ১৯%, ক্ষুদ্র ৪৯%, মাঝারী ২৬% এবং ধনী ৬%। মাথাপিছু চাষযোগ্য জমির পরিমান ০.১১ হেক্টর। প্রধান ফসল : ধান, পাট, গম, পান, সরিষা বীজ, তীল, বেগুন, পেঁয়াজ, রসুন এবং তরিতরকারী। বিলুপ্ত অথবা প্রায় বিলুপ্ত শষ্য : নীল, তামাক, বার্লি, কাউন, ছোলা এবং খেসারী। প্রধান ফল : আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, পেয়ারা, কালোজাম এবং জামরুল। যোগাযোগ সুবিধা : পাকা সড়ক ৬২ কি: মি:, আধা পাকা ৫০ কি: মি:, কাঁচা রাস্তা ৪৩০ কি: মি:, রেলপথ ১৬ কি: মি: এবং জলপথ ৮ নটিকেল মাইল। ঐতিহ্যগত পরিবহন : পালকী (বিলু্‌প্ত), ঘোড়া ও গরুর গাড়ী (প্রায় বিলুপ্ত) এবং নৌকা। কলকারখানা : চিনির কল ১টি, কাপড় কল ২টি (বিলুপ্ত), বরফ কল ৭টি, চাউল কল ৩০, তেল কল ৫টি, ময়দার কল ১টি, ডালের কল ৩টি, করাত কল ৩০টি এবং ওয়েলডিং ২৫টি। কুটির শিল্প : তাঁত কল ৪০০টি, বাঁশ এবং বেতের কাজ ৩২৩টি, স্বর্ণকার ১১০টি, কর্মকার ৮৫টি, কুম্ভকার ৫৫টি, কাঠের কাজ ৯০টি এবং চাকা তৈরির কাজ (গরুর গাড়ীর) ২৪টি। হাট বাজার ও মেলা : হাট ও বাজারের মোট সংখ্যা ৩১টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কালিগঞ্জ, বড় বাজার, কোলা, বালিয়াডাঙ্গা, চাপরাইল, কালা এবং টাট্টিপুর বাজার। মেলার সংখ্যা ২টি। বৈশাখি মেলা (বারফা) এবং শ্বশান মেলা (অংগিত)। প্রধান রফতানী : ধান, পাট, কলা, তরিতরকারি, চিনি, পান এবং খেজুর গুড়। এনজিও তৎপরতা : তৎপরতা চালাচ্ছে এমন উল্লেখযোগ্য এনজিওগুলো হচ্ছে ব্রাক, আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, সি.এস.এস, সৃজনী, ওয়েল ফেয়ার, প্যারাডাইস, উন্নয়ন ধারা এবং আত্নবিশ্বাস। স্বাস্থ্য কেন্দ্র : উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১টি, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ৮টি, স্যাটেলাইট ক্লিনিক ২টি এবং পশু চিকিৎসা হাসপাতাল ১টি। তথ্য সূত্র : বাংলা পিডিয়া ওয়েবসাইট
diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.