Recents in Beach

ঝিনাইদহ মহকুমার ইতিহাস History of Jhenaidah Subdivision

ঝিনাইদহ মহকুমার ইতিহাস History of Jhenaidah Subdivision চুয়াডাঙ্গার নিকটে মাথাভাঙ্গা নদী থেকে জন্ম নিয়ে নবগঙ্গা ঝিনাইদহের বুক চিরে প্রবাহিত হয়ে চলে গেছে মাগুরার দিকে। এই নবগঙ্গার তীরে গড়ে ওঠেছে মহকুমা শহর। প্রথমে ফাঁড়ি, পরে থানা ও ১৮৬০-৬১ সালের দিকে ঝিনাইদহ মহকুমার সৃষ্টি হয়। (Jessore has undergone a long series of changes with regard to its area. In 1860-61 separate Sub-divisions were created with headquarters at Khulna, Jhenidah, Magura, Narail and Jessore) (Bangladesh Directory 1978. Time publications). অন্য সূত্রমতে ১৮৬২ সালে ঝিনাইদহ মহকুমা পর্যায়ে উন্নত হয়। ঝিনাইদহ মহকুমা হলে ১৮৬৩ সালের দিকে কোটচাঁদপুর মহকুমা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ সন্বন্ধে সরকারী তথ্যে জানা যায়, The-Division was later abolished in the re-arrangement made in 1863. মহকুমা শহরে পরিণত হলে শহরের গুরুত্ব বেড়ে যেতে থাকে। নড়াইলের জমিদারদের নিকট হতে কবুলিয়ত মূলে জায়গা নিয়ে সবচেয়ে উঁচু স্থান নবগঙ্গার তীরে ফৌজদারী দেওয়ানী আদালত ভবন নির্মাণ করা হয়। পাকিস্তান আমলে ফৌজদারী আদাল টুইডির মাঠে স্থানান্তরিত হয় এবং অতি সম্প্রতি দেওয়ানী আদালত অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছে। সে সময়ে নির্মিত মহকুমা প্রশাসকের বাংলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পূর্বের মহকুমা প্রশাসক ও বর্তমান জেলা প্রশাসকের বাংলোটি আসলে জেলখানার জেলারের কোয়ার্টার ছিল। জেলখানার জেলার এখনও জেলখানার পার্শ্বে টিনের ছাপড়ায় বসবাস করেন। মাগুরা-চুয়াডাঙ্গা ও যশোহর-ঝিনাইদহ রোডের সঙ্গম স্থল অর্থাৎ বর্তমান ত্রিমোহনী থেকে পোস্ট অফিস পর্যন্ত স্থান ছিল ফাঁকা এবং জঙ্গাবৃত। আস্তে আস্তে এ জায়গায় ছোট ছোট দোকানঘর গড়ে উঠতে থাকে। ঝিনাইদহ শহরটির বিশেষত্ব এই যে, নবগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকা ক্রমশঃ উঁচু। আর এজন্য সাধারণতঃ বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি নবগঙ্গা নদীর দিকে না গিয়ে নদীর দিক থেকে শহরের দিকে চলে আসে। জনশ্রুতি আছে যে, যে যত জায়গা পরিষ্কার করতে পারবে, তত জায়গা তার হবে। অনেকেই এসব জায়গায় বাঘ বাস করতে দেখেছেন। সন্ধ্যার পরে কেহ ঘর হতে বের হতে সাহস পেতো না বাঘের ভয়ে। সে আমলে নবগঙ্গা নাব্য ছিল। ফলে নদীর পাড়ে গড়ে উঠে দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। চাকলা কাছারী ছিল জমিদারদের কাছারী। স্থানটি চক্রাকারে ঠিক করে দেয়া হয় যাতে যখন-তখন এখানে আজে-বাজে লোক ঢুকতে না পারে। এজন্য স্থানটির নাম চাকলা হয়েছে বলে জনশ্রুতি আছে। প্রতিষ্ঠিত হয় হাসপাতাল, লোন কোম্পানী, একটু দূরে পোস্ট অফিস, ইংরেজী উচ্চ বিদ্যালয় (বর্তমানে এই স্থানে সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় অবস্থিত), ড্রামাটিক ক্লাব, থিয়েটার হল। উল্লেখ্য, সরকারী হাসপাতাল বর্তমানে হামদহে স্থানান্তরিত হয়েছে। প্রথমে পাটের জন্য গুদাম তৈরী করে নির্মল ডাক্তার নামে একজন লোক পরে স্থাপন করেন সিনেমা হল। স্থানীয় লোক তখন এটিকে ‘টকি’ হল বলতো। পরে নাম দেয়া হয় ছায়াবাণী (বর্তমান নাম ছবিঘর)। অনেক নীলকর সাহেব এদেশে জমিদারী শুরু করেন। এর মধ্যে অন্যতম একজ হচ্ছেন মধুপুরের নীলকুঠির কুঠিয়াল টি. সি. টুইডি। টুইডি সাহেব খেলাধুলার জন্য জমি দান করেন। তাঁর দানকৃত জায়গায় এ টিম, বি টিম ও সি টিমের ফুটবল খেলার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। গঠিত হয়েছিল টুইডি স্পোর্টি ক্লাব। লোকে তখন টুইডি মাঠকে ফিল্ডের মাঠও বলতো। বর্তমানে এখানে পার্ক, পৌরসভা ও কালেক্টরী অবস্থিত। ঝিনাইদহের উন্নতির ক্ষেত্রে টুইডি সাহেবের দান স্মরণযোগ্য। বিকাল বেলা টুইডি সাহেব সপরিবারে ঘোড়ার গাড়ীতে করে শহরে ঘুরে বেড়াতেন। টুইডি সাহেবের দাদার নাম এন্ডরি রসুল সাহেব। স্ত্রীর নাম এলিজাবেথ টুইডি। মেয়ের নাম মিস মাজারী এলিয়েনর টুইডি সাহেবা ওরফে মিস এমিনি টুইডি। টুইডি সাহেবের ম্যানেজার ছিল ভূপেন দত্ত। টুইডি সাহেব চলে গেলে মধুপুরের অধিকাংশ জায়গাজমি ভুপেন দত্তের হয়ে যায়। কেহ কেহ বলেন, টুইডি সাহেব কিছু জমি তাকে দান করেছিলেন। তিনি নারকেলবাড়িয়ার জনৈক ব্যক্তিকেও কিছু জমি দিয়েছিলেন। কোটচাঁদপুরে নীল কুঠিয়াল সিনোলব ম্যাকলিয়ড ও টনি ম্যাকলিয়ডের অবদান আছে যথেষ্ট। ঝিনাইদহে প্রথম সাব-রেজিষ্ট্রারী অফিস শুরু হয়েছিল বর্তমান যশোর রোডের দিকে যেতে যেখানে পুলিশ ফাঁড়ি অবস্থিত সেখানে। পরে স্থানান্তরিত হয় টুইডি মাঠের সামনে অর্থাৎ কাঞ্জিলালের বাড়ীতে। তথ্য সূত্র: যশোর গেজেটিয়ার