শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৯

আমি প্রেম তুমি

কয়েকদিন থেকে দেখছি পায়েল খুব অস্বাভাবিক আচরণ করছে। পায়েল আমার ছোট বোন। একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু কয়েকদিন থেকে সে খুব অদ্ভুত আচরণ করছে। পায়েল ঘরে থাকলে যে ঘরকে ঘর মনে হতো সেই ঘর এখন আমার কাছে আর ঘর মনে হয়না। আগে পায়েল সারাদিন এটা ওটা করতো। কখনো মায়ের সাথে ঢং করতো, কখনো বাবাকে এটা আনবে ওটা আনবে বলে বিরক্ত করতো। আর আমার সাথে যা করতো তা বলার মতো না। আমাকে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করে বিরক্ত করতো। মাঝেমধ্যে তো আমার ফোন দিয়ে আমার ফেইসবুক আইডিতে ঢুকে যেত আর আমার বন্ধুদের সাথে করা চ্যাট দেখে বিভিন্ন প্রশ্ন করে বসতো। আর কোনো মেয়ের সাথে যদি কথা বলে থাকি তাহলে তো আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করতো। পায়েল বলতো, ভাইয়া মেয়েটা কে? মেয়েটার সাথে তর কিসের সম্পর্ক? মেয়েটার কথা বাবাকে বলে দিবো কি? ইত্যাদি। অবশ্য পরে এই ব্যাপারে সে বাবা মাকে কিছুই জানায় না। কিন্তু আজ কয়েকদিন থেকেই দেখছি নাতো পায়েল মায়ের সাথে ঢং-তামাশা করে, নাতো বাবাবে কিছু আনার জন্য বলে, নাইবা আমার রুমে আসে শয়তানি করতে। তার শয়তানি গুলো যদিও বিরক্তিকর মনে হয়, কিন্তু খুব মিস করছি বোনের শয়তানি গুলো। কি যে হলো কিছু বুঝতে পারছিনা। আজ সকালে আমরা সবাই একসাথে সকালের নাস্তা করছি। সবাই নাস্তায় মগ্ন আর মাঝেমধ্যে কিছু গল্পও হচ্ছে। কিন্তু পায়েল একদম চুপচাপ নাস্তা করছে। পায়েল যে চুপচাপ নাস্তা করছে সেটাই আমি বিশ্বাস করতে পারছিনা!! যে মেয়ে এদিক ওদিকের গল্প নাস্তার টেবিলে বসে করতো সে আজ চুপচাপ বসে নাস্তা করছে!!! বিষয়টা মা বাবা খেয়াল না করলেও, আমি জানি নিশ্চয়ই কিছু একটা হয়েছে পায়েলের সাথে। কিন্তু বিষয়টা জানবো কি করে? পায়েলকে সরাসরি জিজ্ঞেস করাটা কি ঠিক হবে? যাই হোক আমি সত্যের গভীরে যাবোই। পায়েল তৈরি হয়ে কলেজে চলে গেলো। মনমরা অবস্থাতেই ঘর থেকে বের হলো পায়েল। এই কয়েকদিনে পায়েলের মধ্যে যে পরিবর্তন এসেছে সেটা আমার বুঝার বাইরে। কেউ এতোটা পরিবর্তন কিভাবে হতে পারে? আমি মায়ের কাছে গেলাম। মাকে জিজ্ঞেস করলাম, -মা তুমি কি কিছু দেখছো? -মা কড়াইয়ে শাক ভাজতে ভাজতে বললেন, কি? -পায়েলকে দেখছো? -মা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে পায়েলের? - সে এখন কেমন চুপচাপ থাকে। কারো সাথে বেশি কথাও বলেনা। বিষয়টা আমার কাছে কেমন অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে মা! -আরে ওসব কিচ্ছু না। পায়েল এখন বড় হচ্ছে তাই তার মধ্যে এমন পরিবর্তন হচ্ছে। তুই কোনো চিন্তা করিসনা এটা নিয়ে। মাকে জিজ্ঞেস করেও কোনো তথ্য পাওয়া গেলোনা। বাবাকে তো জিজ্ঞেস করে লাভ নেই। উনিতো উনার বিজনেস নিয়ে ব্যস্ত। পরিবারে কি হচ্ছে না হচ্ছে তার কোনো খেয়াল তো উনি রাখেনই না। কিন্তু পায়েলের অদ্ভুত আচরণ কাউকে না ভাবালেও, আমার ছোটো বোনের এমন আচরণ আমাকে ক্রমশই ভাবাচ্ছে। বিকালে পায়েল কলেজ থেকে বাসায় ফিরলো। একদম চুপচাপ মনমরা হয়ে ব্যাগটা রাখলো আর তার রুমে ঢুকে পড়লো। যে পায়েল কলেজ থেকে আসলেই খাবারের জন্য পুরো ঘর মাথায় তুলে নেয় সে চুপচাপ তার রুমে বসে আছে! বুঝার চেষ্টা করেও বুঝতে পারছিনা আমি। আমি পায়েলের জন্য খাবার নিয়ে তার রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। দরজাটা ঠুকে পায়েলকে জিজ্ঞেস করলাম, পায়েল ভিতরে আসবো? -ভেতর থেকে পায়েল জবাব দিলো, হ্যাঁ দা আয়! -ভিতরে ঢুকলাম। পায়েল বিছানায় বসে আছে। আমি পায়েলকে জিজ্ঞেস করলাম, কিরে পায়েল? আজ কলেজ থেকে এসে দেখি খাবারের জন্য চিল্লাচিল্লি করলিনা! কি হয়েছে? -নারে দা, কিছু হয়নি। আমার ক্ষুধা নেই। -ক্ষুধা নেই মানে কি? এই নে খা। তুই যে বাইরের খাবার খাসনা সেটা আমার ভালো করে জানা আছে। -পায়েল হাত ধুয়ে খেতে বসলো। পায়েল খাচ্ছে ঠিক তখনই আমি পায়েলকে জিজ্ঞেস করলাম, পায়েল তর কি কিছু হয়েছে? মানে কলেজে বা বান্ধবীদের সাথে কোনো ধরনের সমস্যা হয়েছে? -পায়েল অবাক ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আমাকে প্রশ্ন করলো, কেন দা? -তুই দেখছি কয়েকদিন থেকে অন্যরকম বিহেইভ করছিস। আগে থেকে অনেক অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছিস। কোনো সমস্যা যদি থেকে থাকে তাহলে আমাকে বল। আমি চেষ্টা করবো তর সমস্যার সমাধান করার। -পায়েলের চোখ মুখ শুকিয়ে গেলো। মুখের ভাতটাও মুখেই আটকে গেলো। পায়েল ভাতটা গিলে বলল, না দা কিছু হয়নি আমার। -সত্যি?? -হ্যাঁ দা সত্যি!! পায়েল কাউকে কিছু না বললেও, আমাকে সবকিছু বলে। তার কোনো কথাই আমার কাছে সে গোপন রাখেনা। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে যে আমার ছোটো বোনটা আমার থেকে কোনোকিছু লুকাচ্ছে। নিশ্চয়ই কোনো কথা আছে যা সে আমাকে বলার সাহস পাচ্ছে না। কিন্তু কি? কোন কথাটা সে আমার কাছে লুকাচ্ছে? কি এমন কথা যে সে তার ভাই নামক বন্ধুটার সাথে শেয়ার করতে পারছেনা। রহস্য টা উন্মোচন করতেই হবে। #বোন......(চলবে)