ভালোবাসা শুরু গল্প ২০১৯

মা আমার বিয়ের জন্য অস্থির হয়ে আছেন। এই পর্যন্ত আমাকে ছয় জন মেয়ে রিজেক্ট করেছে। আমি যে দেখতে কুৎসিত এমন নয়, অথবা আমার টাকাপয়সার অভাব বা জব নে...

মা আমার বিয়ের জন্য অস্থির হয়ে আছেন। এই পর্যন্ত আমাকে ছয় জন মেয়ে রিজেক্ট করেছে। আমি যে দেখতে কুৎসিত এমন নয়, অথবা আমার টাকাপয়সার অভাব বা জব নেই এমনটাও না। আমার অতীতটা একটু ভিন্ন। মেয়েরা যখন আমার অতীত সম্বন্ধে জানতে পারে তখন তারা নিজেই আমাকে রিজেক্ট করে দেয়। আর তাদের রিজেক্ট করায় আমি নাতো অবাক হই, নাইবা দুঃখিত হই। কারণ আমার অতীতটা আমি নিজেই তাদের সামনে তুলে ধরি। আর আমার অতীতটাই এমন, যা শোনে যে কোনো মেয়েই আমাকে বিয়ে করতে চাইবেনা। তাছাড়া বিয়েতে আমারো কোনো ইন্টারেস্ট নেই। কিন্তু আমার মায়ের মন রাখার জন্য আমি বিয়ে করতে রাজি হই। কিন্তু কাউকে অন্ধকারে রেখে আমি বিয়ে করবোনা এমনটা মায়ের কাছে আমার শর্ত। মা আমার শর্ত প্রথম প্রথম মানলেও, যখন দেখলেন আমার অতীতের কারণে আমার বিয়ে হচ্ছে না তখন তিনি আমাকে আমার অতীত গোপন রাখার জন্য জোর করলেন। কিন্তু আমি উনার কথার মান্য করলাম না। মা এবারো একটি মেয়েকে পছন্দ করেছেন। মায়ের ইচ্ছা আমি যেন মেয়েটাকে আমার অতীত সম্পর্কে কোনোকিছু না বলি। কিন্তু আমি মায়ের কথায় একদম একমত হলাম না। একটা মেয়েকে ঠকাতে আমি পারিনা। কারণ ঠকবার ব্যথা আমি ভালোকরে বুঝি। যদি বিয়ের পর মেয়েটা আমার অতীত সম্পর্কে জানতে পারে তাহলে নিশ্চয়ই আমাকে অনেক অভিশাপ দিবে। আর কোনো নিষ্পাপের অভিশাপ নিয়ে আমি বাঁচতে পারবোনা। মায়ের পছন্দ করা মেয়ের নাম জয়া। গতকালই মা আর বাবা মেয়েকে দেখে এসেছেন। আমার অফিসে কিছু কাজ থাকায় আমি মেয়েকে দেখতে যেতে পারিনি। কিন্তু মায়ের বর্ণনা অনুযায়ী মেয়ে দেখতে সুন্দর, মাস্টার্স পড়ে। মায়ের কথানুযায়ী মেয়ে অনেক ভদ্র প্রকৃতির। গতকাল মাকে বলেছিলাম যে আমি মেয়েটার সাথে দেখা করতে চাই। মা বুঝে ফেললেন আমি মেয়েটার সাথে কেন দেখা করতে চাচ্ছি। মা আমাকে অনেক অনুরোধ করলেন মেয়েটাকে আমার বাস্তবতা না জানাতে। কিন্তু আমার সিদ্ধান্ত অটল। আজ মেয়েটার সাথে সাড়ে এগারোটায় এক রেস্টুরেন্টে দেখা করার কথা। আমি একটু জলদি করেই বেরিয়ে পড়লাম। আমি চাইনা কেউ আমার জন্য অপেক্ষা করুক। এগারোটা বিশ মিনিটে আমি রেস্টুরেন্টে পৌছালাম। তার পাঁচ মিনিট পরপরই জয়া এলো। মেয়েটাও মনে হয় কাউকে অপেক্ষা করাতে পছন্দ করেনা। জয়ার ফটো মা আমাকে দেখিয়েছেন যার কারণে জয়াকে চিনতে আমার অসুবিধা হয়নি। আমি জয়াকে রিসিভ করলাম। আমরা একটা টেবিলে গিয়ে বসলাম। আমাদের মধ্যে কিছুক্ষণ মৌনতা চললো। কিন্তু আমি চুপচাপ থাকাটা পছন্দ করিনা। আমি জয়ার উদ্দেশ্যে বললাম, -আপনার সাথে দেখা করার একটা বিশেষ কারণ আছে!! -এটাই যে আমি দেখতে সুন্দর নাকি কুৎসিত? -জ্বি না। বিশেষ কারণ। আচ্ছা আপনি কি খাবেন বলুন। -আপনার যা ভালো লাগে! -এই রেস্টুরেন্টের বিরিয়ানী কিন্তু খুব বিখ্যাত। আপনি পছন্দ করবেন? -হুম,,, আমি বিরিয়ানীর অর্ডার দিয়ে জয়াকে বললাম, আমি এর আগে আরোও ছয়বার রিজেক্ট হয়েছি। -ও,,তা কেন? -কারণ আমি একটি মেয়েকে ভালোবাসতাম। আর যারা আমাকে রিজেক্ট করেছে তাদেরকে আমি এই সত্যটা বলেছিলাম। -এখন কি মেয়েটাকে ভালোবাসেন না? -বাসি..... -তাহলে??? -সে বাসে না!! ততক্ষণে অর্ডার করা বিরিয়ানী চলে আসলো। জয়াকে বললাম, এই নিন বিরিয়ানী চলে এসেছে। শুরু করুন। জয়া বিরিয়ানী খেতে খেতে জিজ্ঞেস করলো, কাহিনী টা কি একটু ডিটেইলসে বলবেন? আমি একটু অবাক হলাম। আমি ভেবেছিলাম এতটুকু শুনেই হয়তো জয়া আমাকে প্রত্যাখ্যান করে চলে যাবে। আমি জয়াকে জিজ্ঞেস করলাম, কাহিনী শুনে আপনি কি করবেন? -আপনি কি চাননা আমি কোনো সিদ্ধান্তে যাই!! -হুম চাই... -সিদ্ধান্তে যেতে হলেতো আপনার কাহিনী শুনতে হবে! -আচ্ছা শুনুন,,,, আমি জয়াকে আমার কাহিনী টা বলা শুরু করলাম,, আমি যখন অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ি তখন অনার্স সেকেন্ড ইয়ারের অহনাকে ভালোবেসে ফেলি। কিন্তু আমি মুখ ফুটে কিছু বলতে পারতাম অহনাকে। বিভিন্ন বাহানায় আমি অহনার সাথে দেখা করতাম। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তার সাথে কথা বলতাম। তারপর তার এক বান্ধবীর কাছ থেকে তার নাম্বার সংগ্রহ করে তার সাথে ফোনে কথা বলা শুরু করি। আস্তে আস্তে আমাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্কটাও গড়ে উঠলো। আমার কথার ফাঁকেই জয়া বলে উঠলো, অহনা কি দেখতে ভীষণ সুন্দর ছিলো? আমি বললাম, আমি অহনার মতো এতো সুন্দর মেয়ে কখনোই দেখিনি। তার প্রেমে পড়ার একটাই কারণ হলো তার অপরূপ সৌন্দর্য্য। প্রতিদিন কলেজে একসাথে আড্ডা দিতাম। বিভিন্ন পার্কে, রেস্টুরেন্টে ঘুরতে যেতাম। এতোটাই ভালোবাসতাম অহনাকে যে তার প্রতি কখনো খারাপ বা অবৈধ কোনোকিছুর মনোভাব আসেনি। সত্যিকারের ভালোবাসলে প্রিয়জনের প্রতি আলাদা একটা শ্রদ্ধা কাজ করে। অহনার যে কোনো ইচ্ছা আমি পূরণ করতাম। তার ইচ্ছাগুলো পূরণ করতে একটা আলাদা মজা ছিলো। এমনকি তার ইচ্ছেগুলো আমার নিজের ইচ্ছে মনে করতাম। তার প্রতিটা জন্মদিনে আমি তার পছন্দের গিফট দিতাম। অহনার বিন্দুমাত্র খুশি আমার জন্য অক্সিজেন ছিলো। -তাহলে অহনা আপনাকে ছাড়লো কেন? -মাস্টার্স কমপ্লিট করার পরও কোনো চাকরির দেখা পাচ্ছিলাম না। সরকারি, বেসরকারী সব জায়গায় চেষ্টা করে দেখলাম চাকরি আর হচ্ছেনা। একদিন অহনা আমাকে বলল তার বাবা নাকি তার উপর বিয়ের জন্য অনেক প্রেসার দিচ্ছেন। ছেলেও দেখে রেখেছেন তার জন্যে। -আপনি কি বললেন অহনাকে? -আমি অহনাকে বললাম যে আমাকে কয়েকটা দিন সময় দিতে। একটা ভালো জব পাওয়ার পর তার বাবার হাতে পায়ে পড়ে তাকে নিয়ে যাবো। -অহনা কি সময় দিয়েছিলো? - অহনা আমার অপেক্ষা না করেই বিয়ের পিড়িতে বসে গেলো। এমনকি বিয়ের কথাও আমাকে জানায়নি। আমি অনেক ভেঙে পড়ি। বাঁচার ইচ্ছে টুকুও নেই। কিন্তু আমার ছাড়া আমার মা বাবার কেউই নেই। এই মা বাবার জন্যই আমার বেঁচে থাকা। -অহনা আপনাকে ঠকিয়েছে জেনেও আপনি আজও তাকে ভালোবাসেন? -হুম বাসি। কারণ আমার ভালোবাসায় কোনো অভিনয় ছিলোনা। আমি অহনাকে আজও ভালোবাসি। আর অহনার জায়গা আমি কাউকে দিতে পারবোনা। -আচ্ছা মনে করেন আমি আপনাকে বিয়ে করতে রাজি হলাম! আপনি কি অহনাকে ভুলতে পারবেন? -কখনোই না!! আমি বিয়ে আমার মায়ের খুশির জন্য করছি। যদিও আপনি আমাকে বিয়ে করার জন্য রাজি হন, আমি কিন্তু আপনাকে কখনো স্ত্রীর মর্যাদা দিতে পারবোনা। -আচ্ছা ঠিক আছে ঠিক আছে! আমি আপনাকে আমার সিদ্ধান্ত টা পরে জানাই? -হুম ঠিক আছে!!. -আপনার নাম্বার টা দিন!! -নাম্বার কেন? -আপনাকে আমার সিদ্ধান্ত জানাবো কিভাবে নাম্বার যদি না দেন?? -ও আচ্ছা, নেন। জয়াকে নাম্বার দিয়ে চলে আসলাম। মেয়েটার আচরণ দেখে একটু অবাক হলাম। আগের মেয়েরা আমার কাহিনী শুনার সাথে সাথেই রিজেক্ট করে দিয়েছিল। জয়া সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য এতোটা সময় নিলো কেন? নিশ্চয়ই আমার সামনে আমাকে না করতে একটু দ্বিধা হচ্ছে তার। নিশ্চয়ই ফোন করে না করে দিবে। রাতে জয়া ফোন করলো। আননোউন নাম্বার দেখে চিনতে না পারলেও, জয়ার হ্যালো বলার সাথে সাথে চিনে ফেললাম। নিশ্চয়ই না বলার জন্য ফোন করেছে। -হ্যালো, কি সিদ্ধান্ত নিলেন। -আমি এই বিয়েতে রাজি। জয়ার বলা কথাটা শুনে আমি আকাশ থেকে পড়লাম এমন অবস্থা। আমি নিজেকে সামলে নিয়ে জয়া কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি সিওর? -হ্যাঁ আমি রাজি! -আর আপনার মা বাবা? ওদেরকে জানিয়েছেন? -হুম তারা জানে। আর তাঁদেরও বিয়েতে কোনো আপত্তি নেই। -আরেক ভেবে দেখুন। সিদ্ধান্ত টা কিন্তু সারাজীবনের!! -আর ভাবতে হবেনা। অনেক ভেবেই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। জয়ার সাথে আমার বিয়ে হয়ে গেলো। আজ আমাদের বাসর রাত। প্রত্যেকটা মেয়ের জীবনে এই রাতের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু জয়া আমার কন্ডিশন জানে। আমি বাসর ঘরে ঢুকতেই তাকে দেখলাম ঘোমটা দিয়ে সে বসে আছে। আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম। -আপনি কমফোর্টেবল তো? -হুম,,,, -দেখেন, আপনি হয়তো আজকের রাতটা নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে রেখেছেন। কিন্তু সত্যি বলতে আমি আপনাকে মন থেকে কখনো নিজের স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারবোনা। আর আপনিও এমন কিছু আমার কাছে আশা করবেন না। জয়া হাসতে শুরু করলো। তার হাসিটা আমাকে অবাক করছে। -আপনি হাসছেন কেন? -আমি আজকের রাত নিয়ে কোনো স্বপ্নই দেখিনি। আর আপনি আগেই আমাকে আপনার শর্ত গুলো বলেছেন। সো ডোন্ট ওয়ারি আমি আপনার কাছে কখনো স্ত্রীর অধিকার চাইতে আসবোনা। কিন্তু আমারো কিছু শর্ত আপনাকে মানতে হবে! -কি শর্ত? -আমাকে তুমি করে ডাকবেন, আর আমাকে নিজের বন্ধু মনে করবেন। -ওকে। আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞেস করি? -করেন,,, -আমাকে বিয়ে করলেন কেন? আমার চেয়ে আরোও বেটার কাউকে তো তুমি নিশ্চয়ই পেতে... -আসলে আপনার সত্যতা আপনার বলার আগে আপনার মা আমাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন। -মানে?? -আপনি দেখা করার আগেরদিন রাতেই আপনার মা আমাকে ফোন করে আপনার অতীতের পাতা আমার সামনে তুলেন। আর এটাও বলেন যে, আপনি অনেক ভালো মনের মানুষ ইত্যাদি ইত্যাদি। আর আপনার মা আপনার সম্পর্কে সেদিন যা বলেছিলেন আমি তাতে সত্যতা খুজে পেয়েছি। সেদিন যখন আপনি আপনার অতীতের কথা বলছিলেন, তখন আপনার চোখে আমি সত্যতা লক্ষ্য করেছিলাম। সত্যি বলতে আমি আপনার মায়ের জন্য আপনাকে বিয়ে করেছি। আপনার মাকে দেখলে আমার মৃত মায়ের কথা মনে পড়ে। -ও, সেজন্যে তো বলি তুমি আমাকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তুত কেনো হয়েছো! আচ্ছা এখন ঘুমিয়ে পড়ো। আমি সোফায় ঘুমিয়ে যাবো। -আপনি আমার সাথে এক বিছানায় ঘুমাতে পারেন। -না থাক আমি সোফায় ঘুমিয়ে যাবো। -এক কাজ করতে পারেন। -কি? -বিছানার মাঝে বালিশ রেখে দিন আর ওইপাশে আপনি আর এইপাশে আমি ঘুমিয়ে যাবো। ওকে? -ঠিক আছে। "বিয়ের আজ একবছর। সংসার গুছিয়ে নিয়েছে জয়া। কিন্তু এই একবছরে কখনো কোনো অভিযোগ, কোনো আপত্তি পোষণ করে নি। হাসিমুখে সবার মুখেই হাসি ফুটিয়ে গেছে। আমার দেখাশোনা, বাবার যত্ন সবকিছুই অনায়াসে পালন করে যাচ্ছে। কখনো আমার কাছে তার কোনো চাওয়া নেই। কিন্তু সেও তো মানুষ। তারও তো মন চায় কোথাও একটু ঘুরে আসতে। স্বামী হিসেবে নাতো কি হলো, বন্ধু হিসেবে তো পারিস তাকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আসতে।" মায়ের কথাগুলো শুনে মনে হলো সত্যিই তো! তাকে শুধু পোষা প্রাণীর মতো ঘরে বেধে রাখলে তো আর হয়না। মায়ের কথায় ঠিক করলাম। জয়াকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাবো। ঘুরতে যাওয়ার কথা শুনে জয়া উৎফুল্ল, আনন্দে প্রায় আত্মহারা। সমুদ্র তীরে বসে দীর্ঘক্ষণ কথা বললাম জয়ার সাথে। অনেক অব্যাক্ত কথা আজ জানা হলো তার কাছ থেকে। আজ প্রথম জানলাম নীল রং জয়ার খুব পছন্দ। ঘুরাঘুরি করতেও মেয়েটা ভালোবাসে। কথায় কথায় মেয়েটা বলেই ফেললো, আমাকেও সে ভালোবাসে। অনেক ভালোবাসে। আর সত্যি বলতে, আমিও মেয়েটার প্রতি দুর্বলতা অনুভব করছি। মেয়েটার জন্য একটা আসক্তি কাজ করে৷ প্রতিদিন সকালে জয়ার হাতের চা না খেয়ে অফিসে যেতে পারিনা। অফিস থেকে বাসায় ফিরলে তার চেহারা একবার হলেও দেখতে হবে আমার। দুজনের মাঝখানে এখন আর বালিশ রেখে ঘুমোতেও আমার তীব্র আপত্তি। ঘুমন্ত অবস্থায় মেয়েটাকে দেখার জন্য একবার হলেও আমার ঘুম ভেঙে ঢ়ায় প্রতিদিন। তার নিষ্পাপ মনটা আমার মনের কোণেও একটা জায়গা করে নিয়েছে। একবার অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়ে আমি পা ভেঙে ফেলি। কয়েকজন লোক আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বাসায় খবর দেয়া হয়। মা বাবা আর জয়া দৌড়ে চলে আসে। আমার পা ভাঙা নিয়ে আমি যতটা চিন্তিত না তার বেশি চিন্তিত দেখছি জয়াকে। মা বাবাকে তো কোনোরকম বুঝিয়েছি কিন্তু জয়াকে বুঝাতে পারিনি। সেই কবে থেকে মেয়েটা কেঁদেই চলেছে। ধমক টমক দিয়ে কোনোভাবে তাকে চুপ করালাম। সেদিন সারারাত আমাকে হাসপাতালেই রাখা হয়েছিল। জয়া আমার পাশে বসে জেগে জেগেই সকাল করে দিলো। পরের দিন পায়ে প্লাস্টার করার পর আমাকে বাসায় নিয়ে আসা হলো। বাসায় আসার পর জয়া আমার অনেক সেবাযত্ন করলো। অসুস্থতার দরুণ কখনো কোনোকিছুর অভাব হয়নি। চাওয়ার আগেই সবকিছু পেয়ে যেতাম। দিনে আমার সেবা করার পর রাতে আমার পাশে বসে বসেই ঘুমিয়ে যেত জয়া। সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম যে মেয়েটা আমাকে অনেক ভালবাসে। জয়ার দেখাশোনায় তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠলাম। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর যা শুনলাম তা শুনে কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। মা চান একটা নাতি বা নাতনি। অর্থাৎ আমার আর জয়ার সন্তান৷ কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি জয়াকে স্ত্রীর মর্যাদা দেই নি। জয়াও হয়তো চায় আমি তাকে স্ত্রীর মর্যাদা টা দেই। কিন্তু হয়তো আমার শর্তের জন্যই নিজেকে দমিয়ে রেখেছে। কখনো আমার কাছে স্ত্রীর মর্যাদা চায়নি। যে আমার সংসারের জন্য নিজের সুখ শান্তি ত্যাগ করেছে তার জন্য কি আমি একটু পরিবর্তন হতে পারিনা? একটু সেক্রিফাইজ করতে পারিনা আমি? আর কতো ছুটবো সেই অতীতকে নিয়ে যার বর্তমানে কোনো অস্তিত্বই নেই! যাকে আমি ভালোবেসে ছিলাম সেতো আমাকে ভালোবাসেনি। কিন্তু যে আমাকে এতোটা ভালোবাসে তাকে একটু ভালোবাসাতো আমি দিতেই পারি। জয়ার হাতটা আলতো করে ধরলাম। বললাম, সত্যি জয়া আমিও তোমাকে ভালোবাসি। মেয়েটা অশ্রুসিক্ত চোখে আমার বুককে জড়িয়ে ধরে বলল, এই দিনটারই তো অপেক্ষায় ছিলাম আমি। -অনেক অপেক্ষা করিয়েছি জয়া, সরি!!!!!!
নাম

৭ টি বিভাগের ৬৪ টি জেলার নামকরণের ইতিহাস সংক্ষেপে,1,এডমিন নোটিশ,2,কবিতা,13,কষ্ট ও ভালবাসা,26,জীবনধারা,8,ঝিনাইদহ জেলা,28,ফটো গ্যালারী,1,বাস্তব কাহিনী,32,ভালোবাসা গল্প,132,মাইন্ড হ্যাকিং,24,লাভ মেসেজ,9,শিক্ষণীয় গল্প,17,হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন ডে,6,Entertaiment,92,Islam,5,
ltr
item
MD ASAD RAHMAN : ভালোবাসা শুরু গল্প ২০১৯
ভালোবাসা শুরু গল্প ২০১৯
https://3.bp.blogspot.com/-tjiaUb7PTn8/XMexUAus_SI/AAAAAAAAAfQ/0IadAS6sk0chLQMKyc8Vvy0c9FdSk4MeACLcBGAs/s320/IMG_1556590809812.JPEG
https://3.bp.blogspot.com/-tjiaUb7PTn8/XMexUAus_SI/AAAAAAAAAfQ/0IadAS6sk0chLQMKyc8Vvy0c9FdSk4MeACLcBGAs/s72-c/IMG_1556590809812.JPEG
MD ASAD RAHMAN
https://www.asadrahman.xyz/2019/04/blog-post_29.html
https://www.asadrahman.xyz/
https://www.asadrahman.xyz/
https://www.asadrahman.xyz/2019/04/blog-post_29.html
true
3383293187171369634
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy