Recents in Beach

…………...……পাগলীর প্রেম…………………………


কলেজের মাঠে বসে ছিলাম।ফেবুতে কারো গল্প পড়ছি অনেক মন দিয়ে।হঠাত টের পেলাম কেও যেন আমার কোলে মাথা রাখল।
=এই তুই কি করছিস?(আমি)
=অনেক ক্লান্তরে মাথা উচু করে রাখতে কষ্ট হচ্ছে তাই মাথাটা একটু নিচু করে রাকছি।(সাদিয়া)
=তাই বলে আমার কোলেই রাখতে হবে?
=তা আর কার কোলে রাখব?তুই না আমার বেস্ট ফ্রেন্ড!
=তা তুই একটা বয়ফ্রেন্ড বানাতে পারিস না?তোরে তো কতো ছেলে প্রোপজ করে তাদের কারো তা আক্সেপ্ট করে নে।তুই তো দেখতেও অনেক ভালো।
=না ওরা একটাও ভলো না।সবাই শুধু এই চেহারাকে ভালোবাসে।যেদিন এই চেহারার কিছু হয়ে যাবে তখন আর ভালোবাসবে না।
=তা তুই কি চাস?
=আমি এমন একটা ছেলে চাই যে আমার চেহারাকে নয় আমার মনকে ভালোবাসবে।
=তাহলে তোর তো অনেক বেশি অপেক্ষা করা লাগবে কারন এমন ছেলে আছে নাকি তাও আমার সন্দেহ হয়।
=তুই চিন্তা করিস না একজন আছে যে কোনো সময় মেয়েদের চেহারার দিকে ফিরেও তাকাআয় না।
=সত্যি তাহলে তো তাকে দেখতেই হয় কে সে?
=না বল্ব না।
=বলনা প্লিজ আমার দুলাভাইকে আমার অনেক দেখার ইচ্ছা হচ্ছে।
=ঠাসসসসস
=আহহহ ওই তুই মারলি কেন?
=ইচ্ছা হলো তাই।
=ইচ্ছা হলেই খালি আমারে মারিস তাই না।মার মার তোর বিয়ের পরে দেখবো কিভাবে আমারে মারিস।
=ঠাসসস
=আবার মারলি কেন।
=তুইতো বললি মারতে।
=বলদ ছেলে পাইছিস তাই যা ইচ্ছা তাই করিস তাই না।মেয়েদের গায় হাত তুলি না বলে পার পেয়ে যাচ্ছিস নইলে...
=নইলে কি করতিস? হ্যা বল বল
=কিছু না দেখি চল ক্লাসের সময় হয়ে গেছে।
বলেই উঠে আসলাম অখান থেকে নইলে আমার আজকে খবর ছিল।ও আপনাদেরতো আমার পরিচয় দেওয়া হয় নি।আমি সাকিব।ইন্টার ১ম বর্ষের ছাত্র।আর এতোক্ষন যার সাথে কথা হচ্ছিল সে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড সাদিয়া।আমাদের প্রথম দেখা কলেজে ক্যান্টিনে পেয়ায় ৩ মাস আগে।কি ভেবে যে মেয়েটার সাথে বন্ধুত্য করতে গেলাম নিজেও জানি না।এখন তার ফল পাচ্ছি।কিন্তু যতো যাই হক ওর মন্টা অনেক ভালো।সবসময় হাসিখুসি থাকার চেষ্টা করে।কলেজ শেষ বাসায় যাচ্ছি হঠাত আমার সামনে এসে হাজির।
=ওই তুই আবার আমাকে রেখে চলে যাচ্চিস?
=সরি ভুল হয়ে গেছে।
=তোর প্রায় প্রত্যেকদিনই ভুল হয় তাই না?
=আরে আমার মা মাফ করে দে আমারে এবার চল।
=আচ্ছা চল।
আমি রিক্সা ডাক্লাম ওর বাসা আর আমার বাসা অনেকটা কাছে।তাই আমি ওকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আমার বাসায় যাই।ওর বাবা-মা আমাকে অনেকভালো জানে ঠিক তেমনি আমার পরিবারের সকলেও ওকে অনেক পছন্দ করে।ও প্রায় আমার বাসায় এসে আমাকে জালাতন করে কিন্তু কেন জানি না আমার ওই জালাতনো অনেক ভালো লাগে।শুক্রবারের সকাল ১০ টা বাজে।আমি আমার রুমে ঘুমিয়ে আছি।হঠাত কেও আমার বুকের উপর উঠে বালিস দিয়ে আমাকে মারতে লাগল।আমার আর বুঝতে বাকি রইল না যে এটা সাদিয়ার কাজ।
=এই তুই আমার গার উপর উঠেছিস কেন? আর এতো সকাল সকাল আমার বাসায় কি করছিস? 
=সকাল সকাল!১০ টা বেজে গেছে আর তুই এখনো ঘুমাচ্ছিস ওঠ তারাতারি।
=না উঠব না আমার ঘুম পাচ্ছে তুই যা।
=যাবো না আমি।আমি তোর বাসায় এসেছি যে তোর কথা শুনতে হবে!
=আম্মু দেখো এই মেয়েটা সকাল সকাল আমাকে জালাচ্ছে।(চিৎকার করে)
=ভালো হয়েছে আমিই তো ওকে পাঠিয়েছি তোকে উঠানোর জন্য।(আম্মু)
=আম্মু তুমি আমার সাথে এরকম করতে পারলে?(কাদো কাদো কন্ঠে)
=আচ্ছা মা আমার ছেলেটাকে ছেরে দেও আর ওর গায়ে পানি ঢেলে দেও।(আম্মু)
=আচ্ছা আন্টি।(সাদিয়া)
বলে উঠে যাচ্ছে তখনি আমি উঠে বসে পরলাম।
=থাক আর পানি আনতে হবে না আমি উঠে গেছি।
=এইতো গড বয়।
=যা!মুটকি একটা।(জিব্বায় কামড় দিয়ে)
=ওই তুই কি বললি আমি মুটকি দাড়া আজকে তুই শেষে।
বলেই আমার চুল ছিরতে শুরু করল।
=আর বলবি আমি মুটকি?
=না না আর কক্ষনো বলব না ছার আমার চুল প্লিজ
=মনে থাকবে তো?
=হ্যা মনে থাকবে এবার ছার
=আচ্ছা তারাতারি রেডি হ আমরা আমার নানাবাড়ি যাব।আমি তোর ব্যাগ প্যাক করে ফেলেছি।
=তোর নানাবাড়ি আমি যাব কেন?
=তুই যাবি মানে যাবি বেশি কথা বল্লে আংকেল্কে বলে দেব তুই আমাকে মেরেছিস।
=আমি তোকে কখন মারলাম?
=মারিসনি কিন্তু আমি বললে কি হবে ভেবে দেখেছিস?
=আমার আম্মু আমাকে যেতে দিবে না।
=আন্টি আমাকে বলেছে তুই আমার সাথে যেতে পারিস তার পরইতী তোর ব্যাগ গুছিয়েছি।
এর পর আর কি আব্বুর ভয়ে আমি বাদ্ধ হয়ে ওর সাথে গেলাম।সেখানে আমরা ৩দিন ছিলাম।অবস্য আমার ওখানে গিয়ে অনেক ভালোই লাগল ।কারন আমার গ্রাম অনেক পছন্দ।সেখানে গিয়ে পরলাম আরেক মুশকিলে।সেখানে সাদিয়ার এক বোন আমাকে প্রোপজ করে বসে।সাদিয়াকে বলতেই ও রাগে ফোঁসফোঁস করছিল।সে তার বোনকে অনেক কথা শুনাল এবং আমকে তার পরের দিন নিয়ে আসে।তার পর ও আমার উপর অনেক খেপেছিল।বাসায় এসে আমাকে অনেক মেরেছিল কিন্তু আমি আসলে বুঝতে পারিনি আমি কেন মার খাচ্ছি।একদিন সাদিয়া কলেজে গিয়ে দেখে আমি জাইনি।সে ওইদিন কলেজ না করে আমার বাড়ি চলে আসে।এসে দেখে আমি অনেক অসুস্থ।আমার অনেক জ্বর।সে আমার অনেক সেবা করে।ওইদিন কেন জানিনা ওর জন্য মনে আলাদা একটা কিছু অনুভব করতে লাগ্লাম।সেইদিন ও আর বাসায় জায়নি।পরেরদিন সকালে আমার ঘুম ভাংতেই দেখি ও আমার পাশে বসে আমার হাতটি ধরে ঘুমাচ্ছে।তার মায়াবি মুখখানা আমার মঙ্কে চুরি করে নিয়ে গেল।এর কিছুদিন পরে আমি কলেজ শেষে আমি ওকে একটি জায়গায় নিয়ে গেলাম।
একটি নদীর পাড়।
=এই তুই আমাকে এখানে নিয়ে এসেছিস কেন?
=এমনি একটু ঘুরতে ইচ্ছা হচ্ছিল কেন তাই।
=যায়গাটা কিন্তু অনেক সুন্দর।
=আচ্ছা সাদিয়া তোকে কিছু কথা বলতে চেয়েছিলাম।
=কি কথা?
=আগে বল তুই রাগ করবি না।
=আচ্ছা রাগ করব নাবল
=সত্যিতো?
=হ্যা সত্যি
আমি সাদিয়ার চখ বেধে ওকে একটি মাঠে নিয়ে গেলাম।সেখানে গিয়ে ওর চোখ খুলে দিলাম আর মাঠের দিকে তাক করলাম।ও মাঠের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষন স্থম্বিত ছিল।কারন সেখানে লেখা ছিল I love you sadiya।তার পর রেগে গিয়ে আমার বুকেমকিল ঘুসি দিতে শুরু করল।
=আরে আরে আমার লাগছেতো।আর তুই বলেছিলি না রাগ করবি না।
=রাগ করব না তা কি করব তুই এতোদিন লাগালি কথাটা বলতে।
আমাকে জড়িয়ে ধরে কাদতে কাদতে সাদিয়া কথাটা বলল।তখন আমার নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান ব্যাক্তি মনে হচ্ছিল।
=আচ্ছা তুই না কাকে জানি ভালোবাস্তিস যে অন্য মেয়েদের দিকে ফিরেও তাকায় না।
=হুম
=আমাকে বললি নাতো ছেলেটা কে।
সাদিয়া তার ব্যাগ হতে একটি আয়না বের করে আমাকে দিয়ে বলল।
=দেখ দেখ কেমন দেখতে আমার চয়েজ কেমন?
=মানে এসব কি হচ্ছে?
=বলদ আমার আমি মনে হয় দেখি না তু রাস্তায় হাটার সময় তার পর কলেজে কেমন করে থাকিস।তোর ওই সরলতার প্রেমেই আমি প্রেছিলাম সেই ক্লাস ১০ এ থাক্তে।কিন্তু তোর সাথে তো কথাই বলা যেত না।তাই কোনোদিন বলতে পারিনি।কিন্তু তোকে যখন আমি কলেজে দেখি তখন আমি যে কি খুসি হয়েছিলাম তা আমি বলে বোঝাতে পারব না।
বলেই আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।আমিও ওকে শক্ত জড়িয়ে ধরলাম আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম আমার এই পাগ্লিটাকে এভাবে সবসময় আগলে রাখব।আর এখান থেকে শুরু হলো একটা নতুন ভালোবাসার গল্প।
আরো গল্পের জন্য আমার টাইমলাইন ঘুরে আস্তে পারেন
,,,,
,,,
অবশেষে রায়হান ওরফে নীল পাঞ্জাবীওয়ালা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ