Recents in Beach

নীরব অনুভূতি

নীরব অনুভূতি ভার্সিটির ক্লাস শেষে বের হতেই দেখি আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। মনে হচ্ছে প্রচণ্ড বৃষ্টি হবে। এই আবহাওয়াটা যদিও আমার খুব ভাল লাগে। কিন্তু তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরার তাড়া মাথায় নিয়ে রওনা হতেই ঝমঝম করে বৃষ্টি শুরু হল। এই রেহ! ছাতাই তো আনিনি। তাই আর এগিয়েও লাভ নেই। আবার ভার্সিটিতে গিয়ে ঢুকলাম। কোথায় যাব ভাবছি। হঠাৎ মনে হল, আরে ক্লাসে যাচ্ছি না কেন? যেই ভাবা, সেই কাজ। কিন্তু ক্লাসে গিয়েই আমি অবাকের চেয়েও বেশি অবাক হলাম। অবশ্য হাসিও পাচ্ছে খুব! একটা মেয়ের কান্না দেখে যদিও আমার মত ছেলের হাসি পাওয়ার কথা না। তবুও হাসি চাপাতে পারছি না! --কিরে অরণী, কাঁদছিস কেন? কোনো রকমে হাসি চাপিয়ে অরণীকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। অরণী আমার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। কারণ অরণীর সাথে সাধারণত কেউ কথা বলে না! টানা দুই বছর একসাথে ক্লাস করার পরও আমিও তো ওর সাথে কোনোদিন কথা বলিনি! অবশ্য ও বড়লোকের মেয়ে বলে অনেকে ওর সাথে ভাব জমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তারা কেউই অরণীর সত্যিকারের বন্ধু না। --জানিস তূর্য, আমাকে না রাজ অনেক বাজে বাজে কথা শুনিয়েছে! আমি এখন কি করব বলতো? এতক্ষণে আমি অরণীর কান্নার অর্থ খুঁজে পেলাম। রাজ আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে স্মার্ট ছেলে। কথাবার্তায়, চালচলনে কেউই ওর সমান হতে পারবে না। আর অনেক ধনীও। আমি ভার্সিটির সেই প্রথম দিন থেকেই দেখছি, অরণী রাজের পিছনে ঘুরছে। রাজ ওকে তো পাত্তা দিচ্ছেই না, উল্টো যা নয় তাই বলে যায়। ইচ্ছে মত ওকে দিয়ে এটা ওটা করিয়ে নিচ্ছে। ক্লাসের যত এ্যাসাইনম্যান্ট আছে, সব তো অরণীই ওকে করে দেয়। তারপরেও মেয়েটাকে বাজেভাবে গালিগালাজ করে রাজ। শুধু অরণী বোকাসোকা আনস্মার্ট একটা মেয়ে বলে। রাজ পারেও বটে! রাজকেও অবশ্য দোষ দেওয়া যায় না। ও আমাদের ক্লাসেরই সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে অর্পাকে পছন্দ করে। অর্পা আর রাজকে প্রায়ই একসাথে ঘুরতে, আড্ডা দিতে দেখা যায়। তারপরেও দেখছি অরণী হাল ছাড়েনি! --কি বলল রাজ তোকে আজকে? --আমি আজকে রাজকে আমার মনের কথা, আমার ফিলিংসের কথা সব বলেছি। কিন্তু ও আমাকে কি বলল জানিস? বলেই আবার ফোঁপাতে শুরু করল অরণী। --আরে বলনা! এত নাটক করছিস কেন? --ও বলেছে, কোনোদিন পেঁচা দেখেছ? আয়নায় গিয়ে দেখ, তাহলেই দেখতে পাবে! বলে ও আর ওর বন্ধুরা সবাই মিলে হাসাহাসি করেছে। এই বলে অরণী আবার কাঁদতে শুরু করল। আমি ওর দিকে তাকিয়ে হাসি চাপিয়ে বললাম, --আসলে কি হয়েছে জানিস? আমরা সবাই সবসময় সোনার হরিণের পিছনে ছুটতে থাকি। যা আমার কোনোদিনই হবার নয়, তার দিকেই হাত বাড়াই। আমাকেই ধর, আমি ভার্সিটির প্রথম দিন থেকেই অর্পার উপরে ক্রাশ খেয়েছিলাম। তারপর আস্তে আস্তে যখন দিন গেল, তখন নিজে থেকেই বুঝলাম, ওর পিছনে ছুটে লাভ নেই। তাইতো এখন আর ওকে নিয়ে কোন ফিলিংস কাজ করে না। --কিন্তু আমি যে রাজকে সত্যিই খুব ভালবাসি। আমি ওকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারি না.. আমি আর হাসি ঠেকিয়ে রাখতে পারলাম না। হাসতে হাসতেই বললাম, --তাহলে তো তোকে ম্যাডাম ফুলির মত চেঞ্জ হতে হবে। অর্পার মত না হলে তো রাজ তোর দিকে ফিরেও তাকাবে না.. আমার কথায় দেখলাম অরণীর চোখ চকচক করছে! আমাকে জিজ্ঞেস করল, --কিভাবে নিজেকে চেঞ্জ করব? বলনা! আমার হাসি এবার আর থামছে না। মেয়েটা আমার মজাকেও যে সত্যি ভাববে, তা কে জানত? কতক্ষণ হাসার পর খুব সিরিয়াস লুক নিয়ে বললাম, --তোর গেট আপে চেঞ্জ আনতে হবে! তোর এই খ্যাত মোটা ফ্রেমের চশমা আর এই অতি সাধারণ লুক, সব বদলাতে হবে। আমি এবার অরণীর দিকে ভাল করে তাকিয়ে বললাম, --তোর চেহারা তো ঠিকই আছে, গায়ের রঙও ভাল। কিন্তু তুই তো একটু সাজিসও না। আর এত লম্বা চুলে বেণী করিস কেন? আসলেই তুই একটা খ্যাতের ডিব্বা! --আচ্ছা, এগুলো চেঞ্জ করার জন্য কি কি লাগে? আমি এবার আরও সিরিয়াস লুক নিয়ে বললাম, --সাইকিয়াট্রিস্ট আর ফ্যাশন ডিজাইনার! এবার আমার হাসি আর কোনো বাধাই মানল না। আমি হো হো করে হেসে উঠলাম। --সাইকিয়াট্রিস্ট আর ফ্যাশন ডিজাইনার? ওরা কি করবে? --ওরা তোর এই বোকা বোকা ভাব আর বোকা বোকা চেহারা চেঞ্জ করবে। বুদ্ধু কোথাকার! বৃষ্টি থেমেছে। তাই আমি ওখানে বসে থেকে মেয়েটার বোকা বোকা কথা আর শুনতে চাইলাম না। অরণীকে ওখানে বোকার মত চিন্তিত অবস্থায় বসিয়ে রেখেই আমি হাসতে হাসতে চলে এলাম। কয়েকদিন পর। অরণী এখন রাজের পিছনে না, বরং আমার পিছনে ঘুরছে। আর সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে। আমার মনে হচ্ছে আমি উটপাখির মত গর্তে মাথা দিয়ে মাটি চাপা দেই! কি যে করব কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। ক্লাসের সবাই ভাবছে, অরণী এখন রাজকে ছেড়ে আমাকে ধরেছে। সুমন তো সরাসরি বলেই বসল, --তূর্য, তোর তো দারুণ লাভ হয়েছে রে দোস্ত! --কেন দোস্ত? --আরে ব্যাটা আগে মিষ্টি তো খাওয়া! --কারণ না বললে মিষ্টি খাওয়াব কিভাবে? --আরে ব্যাটা এত ধনী একটা মেয়েকে পটাইলি, এখন তো তুই সোনায় সোহাগা! --ধনী আবার কে? --আরে আমাদের ক্লাসের ধলা চশমা, অরণী! --ফালতু কথা বাদ দে। আমি গেলাম। বলে না হয় ওর কাছ থেকে