মাইন্ড হ্যাকিং

ভেবেছি “মাইন্ড হ্যাকিং” এর ওপর একটি বই লিখবো, কিছুটা এগিয়েছিও বটে…. অদ্যাবধি “মাইন্ড হ্যাকিং” নিয়ে লেখা বইয়ের শুরুর কিছু অংশ তুলে ধরলাম;আশা করি আপনিও একজন Mind Hacker হওয়ার প্রয়াস পারবে…. ★মাইন্ড হ্যাকিং সোজা ভাষায় “মাইন্ড হ্যাকিং” এর “মাইন্ড” মানে “মন” আর “হ্যাকিং” মানে “চুরি” সুতরাং কারো অজান্তেই তার মন চুরি করে নিজের স্বার্থসিদ্ধি’ই হলো মাইন্ড হ্যাকিং। “চুরি করা যে খারাপ কাজ” এটা তো জানেন নিশ্চয়ই তা হউক “মন চুরি” কিংবা “মোহর চুরি” তাই দয়া করে কেউ “মাইন্ড হ্যাকিং” এর টেকনিকগুলি খারাপ কাজে ব্যবহার করবেন না; শুধুমাত্র নিজের বিশেষ প্রয়োজনে ইথিক্যাল উদ্দেশ্যে যখন আপনার সামনে আর কোন পথ খোলা থাকবে না তখনই এই টেকনিকগুলি ব্যবহার করবেন [কড়জোড় অনুরোধ রইলো]। “মন” জিনিসটা আদতে শরীরের কোথায় অবস্থান করে এটা এখনো অজানা, তবে ধারণা করা যায় যে মানুষের ব্রেইন বা মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যকলাপ’ই আসলে মানসিক উদ্দীপনা যেমন মন প্রফুল্ল থাকা কিংবা মন খারাপ হওয়া, অভিমান করা কিংবা অনুরক্ত ভালোবাসা ইত্যাদির কারন; সুতরাং মাইন্ড হ্যাকিং কথাটা আসলে পক্ষান্তরে ব্রেইন হ্যাকিংও বলা চলে। উল্লেখ্য যেহেতু আপনি আপনার ব্রেইন দিয়ে অন্যের ব্রেইনকে নিয়ন্ত্রণ করবেন তাই আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই একটু হলেও তো ব্রিলিয়্যান্ট হতেই হবে…আপনার ব্রেইন’ই আপনার একমাত্র হ্যাকিং গ্যাজেট!!! ★ব্রেইন হ্যাকিং ট্রেনিং সাইবার জগতে হ্যাকার হতে হলে যেমন আপনাকে বিভিন্ন প্রোগামিং শিখতে হয়- হ্যাকিং টিউটোরিয়াল ফলো করে প্র্যাকটিস করতে হয় তেমনি মাইন্ড হ্যাকিং করতেও শুরুতেই আপনাকে আপনার ব্রেইনকে ট্রেইন করাতে হবে; আপনার ব্রেইনকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। কিছু নমুনা ফলো করুন: (১) আপনি যদি সারাদিন শুধু বকবক করেন বা বাচাল স্বভাবের হন তাহলে স্বভাবতই কেউ আপনার গুরুত্বপূর্ণ কোন কথাতেও পাত্তা দিবে না। সুতরাং সবার নিকট আপনার কথার গ্রহণযোগ্যতা পেতে এমন বাচালতা বাদ দিতে; তাইবলে একদম নিশ্চুপ মন মরা হয়ে যেতে হবে এমনটা নয়। (২) কথা বলার সময় শান্ত ও ধীরস্থির থাকুন; দৃঢ়ভাবে কথা বলুন; তাহলে আপনি যার সাথে কথা বলছেন তিনিও আপনার কথা শুনতে ফোকাস হবেন। (৩) মেয়েরা সাধারণত ছেলেদের সাইকোলজি খুব তাড়াতাড়ি পড়তে পারে তাই ভালোবাসা প্রপোজালে শুধু সবার চক্ষু হতে লুকিয়ে একটু মুচকি হাসি দিলেই আপনার প্রপোজের মেসেজটি সে এমনিতেই পেয়ে যাবে; অবশ্য মেয়েদের চাপা স্বভাবের কারনে প্রায়শ তা অপ্রকাশিত থাকে আরকি! (৪) কথা বলার সময় অপর পক্ষের কথাও মনোযোগ দিয়ে শুনুন, যদিওবা তা শুনতে আপনার ভালো না লাগে…তাহলে উক্ত ব্যক্তিও আপনার কথাতে এটেশন দিবেন। মনে রাখবেন জগতের সবকিছু স্বার্থের সাথে সম্পর্কযুক্ত তাই “আপনি কাউকে কিছু দিলে তবেই তার নিকট হতে কিছু ফিডব্যাক আশা করতে পারেন”। (৬) শত্রুর সাথে সবসময় মধুর মতো ব্যবহার করুন তাহলেই তার দূর্বলতা আপনি আপনি সে আপনাকে অজান্তেই জানিয়ে দিবে; সাইবার জগতে যেটাকে বলে ভার্নাবিলিটি- সাইকোলজিতে সেটাই হলো “ভুল-ভ্রান্তি”। আর আপনাকে এই “ভুল” টাই “ভালোবাসার” নামে “ফুল” হিসেবে শত্রুকে সেই ফুলের কাটার আঘাত দিতে হবে; যাতে ফুলের নেশায় সে যে কতো বড় Fool হয়েছে সেটা উপলব্ধি করার আগেই আপনার কার্যসিদ্ধি করতে পারেন। (৫) উপরের ৪ নং পয়েন্টের পর আমি সরাসরি ৬ নং পয়েন্টে চলে গিয়েছি; এটা হয়তো আপনি মিস করেছেন (যদি সেটা ফলোআপ করেন তবে আপনি নিশ্চিত সুপার এটেনটিভ)। আপনাকে সবসময় চারিপাশের অবস্থা সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। আপনার ব্রেইনের ইনপুট (চোখ, কান আর সিক্স সেন্স) সবসময় এটেনটিভ রাখুন।★কাছে আসার কৌশল!!! অন্যের ব্রেইন বা মাইন্ড হ্যাক করতে সবার আগে আপনাকে তার কাছে আসতে হবে; কাছে আসতে হবে মানে তার গায়ের সাথে গা ঘেষে থাকতে হবে এমনটা নয়…আপনাকে উক্ত ব্যক্তির মনের মাঝে তথা ব্রেইনের মাঝে একটা স্থান করে নিতে হবে। অন্যের মনের ভেতর জায়গা পেতে সবার আগে আপনাকে তার সম্পর্কে জানতে হবে( তার সম্পর্কে সকল তথ্য বা ডাটা সংগ্রহ করে একত্রিত করুন) এবং আপনার মনের মাঝেই তার একটি কাল্পনিক অবয়ব তৈরী করুন। আপনার কোন ব্যবহারে সে খুশী হবে/ কোন কথায় তার মনে আঘাত লাগবে/ কোন বিষয়ে সে ইমোশনাল হবে/ কোন কথাতে সে হাসতে বাধ্য হবে / কোন ব্যবহারে সে রেগে যাবে এমন একটা ছক কষে সামনের দিকে এগিয়ে যান….. (১) অপরিচিত কারো মনে জায়গা পেতে আপনি তার দূর্বলতম জায়গাটা খুজে বের করুন এবং তাকে সেই বিষয়ে সাপোর্ট দিন( তা ইউক মোরাল সাপোর্ট/ফিজিক্যাল সাপোর্ট /ফাইনানসিয়্যাল সাপোর্ট /সোস্যাল সাপোর্ট ইত্যাদি)। (২) তাকে সহজাত কেয়ার করুন; তাকে গুরুত্ব দিন। (৩) শত ব্যস্ততার মাঝেও যে আপনি তাকে সময় দিচ্ছেন এবং হাসিমুখে সেটা উপভোগ করছেন; এমনটা তাকে ভাব-ভঙ্গিতে উপলব্ধি করানোর চেষ্টা করুন। (৪) তার পছন্দের জিনিসগুলা তার সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করুন; এমনকি আপনার মন না চাইলেও তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে “অনিচ্ছাসত্ত্বে কেবলমাত্র তার জন্যই আপনি এতোসব করছেন” এতে করে আপনি যে দিওয়ানা হয়েছেন সেটার অপজিট রিএ্যাকশনে তিনিও কার্যত আপনার দিওয়ানা বা ফ্যান হয়ে যাবেন। (৫) কখনো তার কথাতে বিরক্তি প্রকাশ করবেন না; সদা হাস্যজ্জল হয়ে কথা বলার চেস্টা করবেন। (৬) বিপরীত জেন্ডারের কেউ হলে তাকে মাঝে মাঝে গিফট দিন; অল্প সমান্য টাকার গিফটও মনের মাঝে আসন করে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট মূল্যবান বটে! আই এ্যাম টকিং এবাউট মাইন্ড হ্যাকিং….তাই অন্যের মনের কাছে আসতে গিয়ে নিজেই আবার আবেগের ফাঁদে আটকা পড়বেন না; এইটুকু মনের দৃঢ়তা থাকা চাই-ই-চাই! ★ছেলেদের মন জয়!!! সত্যি বলতে স্বভাবতই একটা ছেলের মনে জায়গা করে নেওয়া একটা মেয়ের পক্ষে আহামরি কষ্টকর কিংবা অসম্ভব কিছু নয়। হয়তো অনেকে ভেবে থাকেন যে ছেলেদের মনে ঠাই পেতে তাকে খুব সুন্দরী হতে হবে যা আদতে পুরোপুরি সত্য নয়। আপনার গায়ের ফর্সা রং এবং সৌন্দর্য ছেলেটিকে আকর্ষণ করাতে পারে সত্য তবে তার মনের মাঝে ঠাই পেতে এটা মুখ্য নয়। (১) প্রায় সব ছেলেই মনে মনে কামনা করে এমন একটি মেয়েকে লাইফ পার্টনার করতে যে শান্তশিষ্ট এবং স্বলজ্জ বিনয়ী ও নরম স্বভাবের হবে। (২) যদিচ আজকাল শাড়ী পড়ার কালচার’টি কদাচিৎ দেখা যায় তথাপি আপনি যদি শাড়ী পড়ে মুচকি হেসে উক্ত ছেলেটির কাছে জানতে চান যে আপনাকে দেখতে কেমন লাগছে? তাহলে নিশ্চিত এর উত্তরটি ছেলেটির মনে সারাদিনই উত্তর-দক্ষিন করে তার মনে দখিনা দোলা দিবে। (৩) একটা ছেলের দিকে তাকিয়ে কোন মেয়ের ইষৎ মিষ্টি মুচকি হাসিই ছেলেটিকে সাইকোলজিক্যালি কাবু করতে এনাফ! (৪) একটি মেয়ে যদি একটি ছেলেকে নিয়মিত কেয়ার করে তাহলে নিশ্চিত অতি অল্প সময়েই ঐ ছেলেটিও মেয়েটির প্রতি দূর্বল হয়ে যাবে এবং মনের মাঝে ইমোশনের একটা স্থান তৈরী করে নিতে সক্ষম হবে। ছেলেরা সাধারণত প্রকৃতিগত ভাবেই একটু কঠিন হৃদয়ের হয়ে থাকে, পক্ষান্তরে একই কারণে তারা অনেক বেশী ইমোশন-সিকার হয়ে থাকে; তাই ছেলেদের মন জয় জয় করতে আবেগ’কে কাজে লাগিয়েই সফল হওয়া সম্ভব। ★মেয়েদের মন জয়!!! ছেলেদের বিপরীতে মেয়েদের মন সহজাত নরম হয়ে থাকে; তবে ডিসিশন নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা আবেগের চেয়ে যুক্তিকেই বেশী প্রাধান্য দেয়; তবে এক্ষেত্রে বয়স এবং ম্যাচিউরিটি একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্ট। অল্প বয়সে মেয়েরা সাধারণত বেশীই আবেগতাড়িত হয়। (১) বস্তুত মেয়েদের মন বুঝে উঠা আদতে অসম্ভবপ্রায় একটি দুঃসাধ্য কাজ কেননা তাদের মন পারিপার্শ্বিক অবস্থার স্বাপেক্ষে নিয়ত পরিবর্তনশীল হয়ে থাকে। তবে মেয়েরা সবমসময় সঠিক ডিসিশন’টাই নিতে চাই। (২) মেয়েরা তাদের প্রশংসা শুনতে পছন্দ করে তাই আপনি যদি কোন মেয়েকে প্রশংসা করেন তবে সে অজান্তেই আপনার প্রতি প্লেজার হয়ে পড়বে। আপনি তাদের সাজগোজ কিংবা কথা বলা নিয়ে প্রশংসা করতে পারেন; একইসাথে আপনার কথাগুলি যেন তাদের হার্ট টাচিং হয় সেটাও খেয়াল রাখবেন কেননা প্রায়শ ছেলেরা মেয়েদের সাথে কথা বলার সময় হয় নার্ভাস নয়তো অসংযত হয়ে পড়ে।আপনি কোন এ্যাংগেলে কোন মাইন্ডে কথা বলছেন এটা মেয়েরা অজানিতেই বুঝতে পারে। (৩) মেয়েরা ব্রিলিয়্যান্ট ছেলেরে বেশী পছন্দ করে তাই মেয়েদের সাথে কথা বলার সময় বুদ্ধিদীপ্ততা ফুটিয়ে তুলুন। (৪) মেয়েরা টাকাওয়ালা ছেলে পছন্দ করে যদিও ছেলেটি টাকলু হয়; এমন কথা নিশ্চয়ই শুনেছেন? আসলে মেয়েরা একটা সেইফ-সিকিউরড লাইফ চায় তাই আপনার স্ট্যাটাস যদি স্ট্যাবল হয় তবে সেটিই একটি মেয়েকে কনভিসন্স করতে এনাফ! (৫) মেয়েরা কেয়ারিং- শেয়ারিং পছন্দ করে তাই মেয়েটির সমস্ত আবেগ বা চিন্তা-চেতানা গুলি বা মনের কথাগুলি আপনার সাথে শেয়ার করিয়ে নিন এবং সিমপ্যাথি দেখান। প্রয়োজনে তাকে মনোবল যোগান যাতে মেয়েটি আপনার ওপর নির্ভার হতে পারে। (৬) মেয়েরা অভিমানপ্রিয় প্রাণী; তারা চাই যে অন্যকেউ যেন ভালোবেসে তাদের অভিমান ভাঙ্গায়….তাই অহেতুক রাগ পরিহার করে তাদের ফিলিংস বুঝে অভিমান ভাঙ্গিয়ে তাদের ঠোটে হাসি ফুটিয়ে তুলতে পারলেই অনেকাংশ তার মন জয় করতে সফল হবেন। (৭) স্বভাবতই মেয়েরা সারপ্রাইজ পেলে খুশী হয় তাই তাদের মাঝে মাঝে গিফট করতে পারেন ; গিফট’টা দামী হতে হবে এমন নয়, এখানে গিফট করাটাই মুখ্য! মেয়েদের মনের জটিল সমীকরণ অদ্যাবধি কেহ সমাধান করতে পারেনি; তাই কোন মেয়ের মন জয় করতে আপনাকে সবার আগে মেয়েটির চিন্তা চেতনাকে নিয়ে এনালাইসিস করতে হবে; হুট করে আই লাভ ইউ বললেই ভালোবাসা হয়ে যায় না!! এছাড়াও বইটির ভেতর হেইট হিটিং, সাইলেন্ট কিলিং, হিপ্নোসিস,ফেসবুক পাসওয়ার্ড হ্যাকিং, প্যারেন্টস মাইন্ড হ্যাকিং, এনড্রোয়েড হ্যাকিং, এনড্রোয়েড ডেস্ট্রয়ার,এন্টি ব্ল্যাকমেইল, স্মার্ট পার্সোনালিটি,এনোনিমাস মাস্কিং, স্লিপার সাইবার সোল্ডার,পিক মানি,স্লেফমেড পয়জন পিল,বাইনারাল বিটস ইত্যাদি ডার্ক বিষয়গুলিও তুলে ধরার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ [বলা বাহুল্য সমাজে ক্রাইম যেন ছড়িয়ে না পরে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবো]। আর হ্যা, বইটি কিন্তু মাইন্ড হ্যাকিং নিয়েই লেখা হবে তাই সাইকোলজিক্যালি’ই আপনাকে হ্যাকার হওয়ার জন্য শুধুমাত্র ব্রেইন থাকলেই হবে…ব্রেইনটাকে শান দিয়ে শাইন কারনোর দায়িত্ব তো আমারই!!! আর্টিকেলটি নিশান আহমেদ নিয়ন্ত্রণ ভাইয়ের, অনুমতি নিয়ে পাবলিষ্ট করলাম।
diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.