আগামী বিশ বছরে যা যা উধাও হবে!



সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাবে প্রযুক্তি, বদলাবে মানুষের নির্ভরতা। আজ থেকে বিশ বছর আগেও আমরা যা ভাবতে পারতাম না, প্রযুক্তি ঠিক তাই এনে দিয়েছে হাতের মুঠোয়। আবার একইভাবে বলা যায়, এখন যা ব্যবহার করছি, আজ থেকে বিশ বছর পর তা আর থাকবে না। ঠিক কেমন হবে আমাদের জীবনধারা? কী কী বদলে যাবে? কানাডীয় ব্লগার রবার্ট গ্রিমিনিক এমনই কিছু বদলের কথা বলেছেন, যা হয়ত বিশ বছর পর হয়ে যাবে প্রাচীন, হয়ে যাবে ভঙ্গুর।

২০১৯ সালে এসেও আমরা অনেকে প্লাগ ইন মোবাইল চার্জারের ওপর নির্ভরশীল। এখন তো অনেকের হাতেই পাওয়ার ব্যাংক পাওয়া যায়। তবে এই পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দেবার জন্যও কিন্তু একটি প্লাগ ইন চার্জারের প্রয়োজন হয়। আজকাল অনেকেই তাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলো মোবাইলের মাধ্যমে সেরে ফেলেন। ইমেইলে অফিসে একটি বার্তা পাঠানো, চট করে একটি ব্লগ লিখে ফেলা কিংবা নিজের ব্যবসার সালতামামি, এসবকিছুই মোবাইলে সেরে নেয়া যায়। তবে কেউ যদি বাড়ি থেকে চার্জ দিতে ভুলে যান, তাহলে সারাদিন কেমন ঝক্কি পোহাতে হয়, তা একমাত্র ভুক্তভোগীই জানেন। তাছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটও অনেক বড় একটি সমস্যা।
অনেকে প্লাগে ফোন চার্জ করার কথা মনেই থাকে না। এসব সমস্যা থেকে উত্তোরণের জন্যই রেডিও ওয়েভের মাধ্যমে কেমন করে মোবাইল ফোন চার্জ দেয়া যায়, তা নিয়ে ভাবছেন অনেক বড় বড় আইটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারেরা। ২০১৬ সালে এনার্গোস নামক একটি প্রতিষ্ঠান ঘোষণা করে যে তারা এমন একটি প্লাগবিহীন ফোন চার্জার আনছে, যা মানুষের এই ধরনের সমস্যাগুলো অনেকাংশে কমিয়ে দেবে। ইতোমধ্যে তারা অনেকটা সফলও হয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতেও যেন সুলভ মূল্যে এই প্লাগবিহীন চার্জার পাওয়া যায়, তা নিয়েই এখন কাজ করছে তারা। তাহলে কিন্তু এটা এখন বলাই যায়, আগামী বিশ বছর পর কারও বাড়ির দেয়ালে প্লাগ ইন চার্জার দেখা যাবে না!

        প্লাগ ইন চার্জার
ওয়ালেট



কোনো কিছুর দাম পরিশোধ করতে কিংবা নিজের বিজনেস কার্ডটি রাখতেও এখনো আমরা ওয়ালেট ব্যবহার করি। তবে গ্রিমিনিক বলছেন, আগামী বিশ বছরের মধ্যে মানুষ ওয়ালেটের কার্যকারিতা হারাবে। এমনকি ওয়ালেট, মানিব্যাগ কিংবা পার্স, যাই বলুন না কেন, এগুলোকে পাঠিয়ে দিতে হবে জাদুঘরে। বস্তুগত টাকা পয়সার ব্যবহার হয়ত থাকবে, তবে ক্রেডিট কার্ড কিংবা ডেবিট কার্ড বদলে সেখানে আসবে অ্যাপ। অ্যাপল পে কিংবা স্যামসাং পে-এর মাধ্যমে আমরা সেটি এখনই দেখতে পাচ্ছি। এছাড়াও আমাদের হালের বিকাশ অ্যাপ তো রয়েছেই। টাকা পয়সা জমা রাখা ছাড়াও লেনদেন করা যায় সহজেই।
এছাড়াও ড্রাইভারের লাইসেন্স দেখানোর জন্যও আর কার্ড কিংবা এই জাতীয় কিছুর প্রয়োজন নেই। ডিজিটাল মাধ্যমে সেগুলো চলে যাবে মোবাইল কিংবা অ্যাপের মাধ্যমে। তবে এখানে বেশ কিছু সমস্যার কথাও বলেছেন গ্রিমিনিক। ধরুন, রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। ছিনতাইকারী চাইলেই কিন্তু আপনার ওপর হামলা করে ওয়ালেট নিয়ে যেতে পারে। ডিজিটাল মাধ্যমে সুখ খুঁজতে চাইছেন? নিরাপদ থাকবেন ভাবছেন? সেখানেও কিন্তু রয়েছে হ্যাকারের ভয়। অর্থাৎ, হ্যাকিং-এর মাধ্যমে চলে যেতে পারে আপনার সমস্ত টাকা। সেক্ষেত্রে ফিজিক্যাল একটি ওয়ালেটের চাইতে ডিজিটাল মাধ্যমে ঝুঁকি কিন্তু বেশি। সমস্ত টাকা আপনি ওয়ালেটে নিয়ে অবশ্যই ঘুরে বেড়াবেন না। তবে করার কিছু নেই। আগামী বিশ বছরের মাঝে ফিজিক্যাল ওয়ালেটকে টেক্কা দিতে আসবে ডিজিটাল ওয়ালেট।

ধাতব চাবি
প্রাচীন মিশরীয় যুগ থেকেই মানুষ তাদের মূল্যবান সবকিছু তালাবদ্ধ করে নিজের কাছে চাবি রাখতে পছন্দ করে। ঘর আটকে বেরিয়ে যাওয়া, সিন্দুকের তালা, এমনকি গাড়ি চালু করতেও আমাদের এখনো একটি ধাতব চাবি প্রয়োজন হয়। তবে গ্রিমিনিকের মতে, আগামী বিশ বছরের মধ্যে ধাতব চাবির আর কোনো প্রয়োজন হবে না।
এমনকি গাড়ি চালু করতেও শুধুমাত্র একটি পুশ বাটনের প্রয়োজন হবে, যেটি চাপলেই গর্জে উঠবে গাড়ির ইঞ্জিন। সবক্ষেত্রেই চলে আসবে ডিজিটাল কী। ব্লুটুথের মাধ্যমে খোলা হবে দরজা, ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে খোলা হবে সিন্দুক। এছাড়াও টাইমারের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে অনেক কিছু। নিজের ব্যক্তিগত জিনিসগুলো কার হাতে দিচ্ছেন বা দেবেন, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন নিমিষেই। স্টারউড হোটেল কিংবা রেঞ্জ রোভার গাড়িতে এখনই ফোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তবে গ্রিমিনিক এখানেও হ্যাকিং-এর আশঙ্কা করছেন। আবার একইসঙ্গে আশঙ্কা করছেন কপালে ভাঁজ ফেলবার মতো আরেকটি বিষয়। কোনো কারণে যদি ফোন নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে যে অনেক সমস্যার উদ্ভব হবে, তা বলাই বাহুল্য!
গাড়ির আয়না

বর্তমানে গাড়ির সঙ্গে লাগোয়া আয়নার প্রতিস্থাপন করছে ক্যামেরা। ২০১৮ সালের মে মাস থেকেই দেখা যাচ্ছিল নতুন সব ম্যানুফ্যাকচারিং গাড়িগুলোতে রিয়ারভিউ ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। তাছাড়া আয়নার জায়গায় যদি ক্যামেরা লাগানো হয়, সেখানেও অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। তাছাড়া গ্রিমিনিকের মতে, ক্যামেরা স্থাপন করা ব্যয়বহুলও নয় বেশি। একটি আয়নায় যতটুকু না দেখা যায়, তারচেয়ে ক্যামেরায় অনেক বেশি কিছু দেখা সম্ভব।
তাছাড়া, শুধুমাত্র গাড়িই নয়, দৈনন্দিন অনেক বিষয়েই আয়নার জায়গায় ক্যামেরা প্রতিস্থাপিত হবে বলে গ্রিমিনিকের বিশ্বাস। আজকাল নিজের চুল ঠিক করতেও ঘরের লাগোয়া আয়নায় মানুষ মুখ দেখে না। মোবাইল ফোনের ক্যামেরাতেই কাজটি সেরে নেয়। আমাদের আয়না তো আর চুলের গঠন কিংবা মুখমণ্ডলের “ফিল্টার” করে দেয় না, তাই না? বুঝতেই পারছেন, ক্যামেরার কত গুণ! আগামী বিশ বছরের মাঝে আয়নাও হয়ত জাদুঘরে চলে যাবে, এটাই রবার্ট গ্রিমিনিকের বিশ্বাস।
আরএস/ ২৭ ফেব্রুয়ারি



কোন মন্তব্য নেই

diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.