একটি সম্পর্ক শেষ হয় হাজারো অশ্রুবিন্দুর বিসর্জনে। এ আঘাত কোনো কিছুর সঙ্গেই তুলনীয় না। পরে সম্পর্ক হলেও আগের সম্পর্কের মতো মনে হয় না। এক সপ্তাহ বা এক মাস পর যদি তার সঙ্গে দেখা হয়—তাহলে আমাদের বুকের মধ্যে এক ধরনের বেদনা, হিংসা, ব্যাকুলতা, তিক্ততা সৃষ্টি হয়। এমনকি নির্ঘুম রাতও কাটতে পারে। ভারতের মুম্বাইয়ের কাউন্সিলর ডা. রঞ্জন ভোনসলে বলেন, সম্পর্ক ভুলে যাওয়ার প্রথম ধাপ হলো—‘সম্পর্ক শেষ’ সেটা গ্রহণের ক্ষমতা। এটাই সবচেয়ে ভাল। আর আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক শেষ করতে গেলে সম্পর্কের রেশ রয়ে যায়। তখন হয়তো আপনি যন্ত্রণা, প্রত্যাখ্যাত কিংবা অপমানিতও হতে পারেন। এমনকি পুনর্মিলনও চাইতে পারেন। পূর্বের কথা ভেবে আঘাত পেতে পারেন। এর অর্থ হলো—নিজেকে দুঃখের নরকের ঠেলে দেওয়া। পুনরায় যোগাযোগ করবেন? পূর্বের কারোর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট জনকে ভুলে যাওয়ার উত্কৃষ্ট পদ্ধতি। ভোনসলে বলেন, ‘আপনার পূর্ব পরিচিতের পুনরায় যোগাযোগের অর্থ হলো—সে আপনাকে তার নতুন সম্পর্কের অবস্থা জানাতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন কাউকে পরামর্শ দেই, তখন বলি সম্পর্ক শেষ করতে হলে সেটা সম্পূর্ণরূপে করতে হবে। যেমন তার দেওয়া উপহার, ছবি, চিঠি, বার্তা কিংবা মনে রাখার মতো সবকিছু শেষ করে ফেলা। মুক্তির অন্যতম উপায় হলো সময় সময় যেতে দেওয়া। এ জন্য কিছুদিনের জন্য দুজনের ‘কমন’ বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে যেতে পারে। সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া যেতে পারে। যদি আচমকা তাদের কারোর সঙ্গে দেখা হয়, তাহলে ভদ্রভাবে হাই-হ্যালো বলে চলে যাওয়া ভাল। আপনার উদ্দেশে হবে—সেই ‘সুখ পাখির’ কোনো তথ্য যেন আপনার জীবনকে বিঘ্ন করতে না পারে। সচরাচর দেখবেন আপনার প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকা আরেকজনের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এটা নিশ্চিত যে, সে আর কখনো তার সঙ্গে আপনার কখনো আর বন্ধন হবে না। তাহলে আপনি কেন নতুন কারোর সঙ্গে সম্পর্কে জড়াবেন না? কেউ যদি আপনাকে তার সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর প্রস্তাব দেয়—তাহলে তখনই হ্যাঁ বলা উচিত। তার সঙ্গে সুন্দর সময় কাটান, আগের মতো নিজেকে চিত্তাকর্ষক করে ভাবুন। হারানো সম্পর্ক চিরকাল পুষে রাখার মানেই হয় না। বাংলাদেশি একজন চিকিত্সক যিনি নিজে ‘অতীত সম্পর্ক’ ভুলে যাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে, কোনো সান্ত্বনা মানুষের ভাল লাগে না। তবে সময় অদ্ভুত জিনিস। যেটা স্বভাবতই অনেক স্মৃতি মুছে দেবে। এ জন্য নিজেকে সময় দেওয়া উচিত। পরিবারের উচিত তাকে কাছে টেনে নেওয়া। যেন সে ভেঙে না পড়ে।’ বাস্তবতা খুব কঠিন কিন্তু অনস্বীকার্য।আমাদের যেকোনো পরস্থিতি তে তা মেনে নিতে হবে।যারা এই আবেগী দুনিয়া থেকে বের না হয়ে আসতে পারবে তারা জীবনের কঠিন পরীক্ষাও উত্তীর্ণ হতে পারবে না। সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ আমাদের এই পোস্টটি যদি আপনাদের ভাল লাগে তাহলে লাইক কমেন্ট আর শেয়ারের মাধ্যমে পাশে থাকবেন ।সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ😊 #অবন্তিকা
diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.