Recents in Beach

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

এই যে খালাম্মা শুনুন
>জ্বী আমাকে বলছেন?
-এখানে তো আপনি ছাড়া কাউকে দেখতে পাচ্ছি না।
>তো আমাকে কি খালাম্মার মতো লাগে?
-না আপনাকে নানির মতো লাগে।
>ধ্যাত,আমি খালাম্মা নানি কিছুই না,আমি নীলিমা।
-তাই নাকি?যা ই হোক।আপনি আমার বাসায় কেন ?এতো ঘন
ঘন আমার বাসায় কি?
>এটা আপনার বাসা নয়,আমার বাসা,আর আমি আমার
বাসায় যখন যেখানে খুশি সেখানে আসবো।
-কে বলছে আপনার?এ বাসায় আমরা থাকি সো এটা আমার
বাসা,নিচ তলায় আপনার বাসা।
>ইস বললেই হলো?এটা আমার বাসা। বুঝলেন মি.আলু?
-না বুঝি নাই,আর বললাম না আমার বাসা।
>আচ্ছা আব্বু কে বললেই দেখবেন কার বাসা সেটা বুঝিয়ে
দিবে।আলু কোথাকার।(বলেই চলে গেলো নীলিমা)
.
আমি আকাশ,অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।গ্রামে বিশাল বড়
বাড়ি থাকতেও বাবার ব্যবসার জন্য ফ্যমিলি নিয়ে ঢাকায়
থাকতে হয় বাবার সুবিধার্থে।আর এর জন্যই এই পাগলির
বাসায় থাকা।
.
আমরা তিন মাস হলো নীলিমাদের বাসায় এসেছি। ১মাস
নীলিমা নামে কাউকে দেখিনি।কিন্তু সেদিন আমার ময়না
পাখি টা কে নিয়ে ছাদে গেছিলাম,সেখানে তার দর্শন
পেলাম।
.
>ভাইয়া পাখিটা কি আপনার?(মিষ্টি স্বরে)
-যেহেতু পাখিটা আমার হাতে তাহলে তো আমারি।
>পাখিটা কথা বলতে পারে ভাইয়া?
-কেন আপনাকে বলবো কেন?
>এভাবে কথা বলছেন কেন একটা বাচ্চা মেয়ের সাথে?
-এমা আপনি বাচ্চা?আপনি তো নানী।
>ক্লাস নাইন এ পড়া মেয়ে তো বাচ্চাই হয়।আর আমার
আব্বু আমাকে পিচ্চি মামুনি বলেই ডাকে।
-তাই নাকি খালাম্মা।
>দেখুন আমার নাম খালাম্মা না।আমি নীলিমা। এই বলে
মন খারাপ করে চলে গেলো।
.
(যেমন নামটা সুন্দর তেমন দেখতেও খুব সুন্দর,চুল গুলো আরো
সুন্দর, কালো আর অনেক লম্বা কোমর পর্যন্ত হবে,চোখ গুলো
কাজল কালো গায়ের রং ও ফর্সা আবার কথাগুলো বাচ্চা
মেয়েদের মতোই বলে।ওর ভয়েস ও বাচ্চাদের মতো।আর কালো
ড্রেস এ একদম মন ছুয়ে গেছিলো।কিন্তু তারপর ও ক্লান নাইন
এ পড়া বাচ্চা মেয়ে তার উপর শুনলাম বাড়িওয়ালার
মেয়ে।তাই আর ওকে নিয়ে তেমন ভাবিনি)
.
সেদিন এর পর থেকে হয়তো পাখিটাকে দেখার জন্য প্রায়
আমাদের বাসায় আসে।কিন্তু ও বুঝে না,ওরে দেখলে আমার
ভালোবাসতে ইচ্ছে হয়।তাই বার বার ওকে তারিয়ে দেই
কিন্তু তারপর ও বার বার আসে আর বার বার ঝগড়া হয়।
আর যাওয়ার সময় আব্বুর ভয় দেখায় কিন্তু পরে আর কিছুই বলে
না।
.
ইদানিং একটু বেশি আসে,জানিনা এতো বকা দেই, ধমক দেই
তাও আসে। এসে পাখিটার সাথে কথা বলে। .
>ময়না পাখি ময়না পাখি বলতো ভালোবাসি,
=ভালোবাসি(পাখি)
>আচ্ছা বলতো আমি তেমাকে ভালোবাসি।
=ভালোবাসি, ভালোবাসি
>আরে শুধু ভালোবাসি না,বল আমি তোমাকে ভালোবাসি।
=ভালোবাসি।
>ধ্যাত তুই তো তোর মালিকের মতো পঁচা হয়ে গেছিস।আমাকে
একদম বুঝিস না।খুব পঁচা তোরা দুজনই ।
.
=নীলিমা মা পাখির সাথে এতো কি কথা বলছো(মা)
>কিছুনা আন্টি।
=আমি কিন্তু সব শুনেছি, আমার ছেলেকে পঁচা বলা হচ্ছিলো?
আকাশ শুনলে কিন্তু খুব রেগে যাবে। ( সকালে ঘুম ভাংতেই
নীলিমা,পাখিটা আর মায়ের কথা ভেসে আসছিলো)
>আচ্ছা আন্টি বলতো, প্রিয় জিনিস গুলো কি এমনই পঁচা হয়?
=কেন মা কি হইছে?
>দেখনো ময়না পাখিটা কথা শুনছে না।আর তোমার
ছেলেটাও আমার সাথে কেমন করে।
=হি হি হি তাই বুঝি?
>আন্টি তুমি হাসছো কেন চলে যাবো কিন্তু আর আসবো না।
=আচ্ছা আর হাসবো না।শুনো মা প্রিয় জিনিস গুলো পঁচা হয়
না।কারন পঁচা হলে তো তোমার সেটা ভালো লাগবে না।
কিন্তু তোমার বুঝতে হবে তাকে।তাহলে আর পঁচা মনে হবে না।
>সত্যি বলছো?
=হুম সত্যি বলছি।
>লাভ ইউ আন্টি।
=লাভ ইউ টু মামনি।
.
দুজনের এতো ভাব দেখে আমার আর সহ্য হচ্ছিলো না। আমার
মা আমাকে কখনো লাভ ইউ বললো না।অথচ ও এসে মায়ের সব
ভালোবাসা একাই নিয়ে নিচ্ছে।তাই টি-শার্ট টা পরেই
ওদের সামনে গিয়ে..
.
-এই মেয়ে তুমি আবার আসছো কেন হ্যা?
>আন্টির কাছে আসছি আর পাখিটার সাথে কথা বলতে
আসছি।
-আর যেন না দেখি তোমায়।আর কখনো এখানে আসবানা।
তাহলে আমরাই চলে যাবো।
>আচ্ছা আর আসবো না,বলেই কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো।
=এই তুই ওর সাথে এমন করে কথা বললি কেন?
-তুমি কখনো আমায় লাভ ইউ বলছো?ওকে কেন বললা তুমি।
=মেয়েটা খুব ভালো আর মিষ্টিও।ওর সাথে কথা বললেই
মায়ায় জড়িয়ে যাই। আর এর জন্য তুই এমন করবি।
-ধুর বাদ দাও।ওর ঢং আমার ভালো লাগে না।এই বলে রুমে
চলে এলাম।
.
রুমে এসে আবার সুয়ে পরলাম,,কিন্তু আর ঘুম আসছিলো।
ভাবলাম শুক্রবার দিনটা সারাদিন ঘুমিয়ে কাটাবো।
নীলিমার জন্য তা আর হল না।ওকে কাঁদিয়ে যেন ওর থেকে
বেশি কষ্ট আমি পাচ্ছি।সারাদিন কেটে গেলো, কিছু খাওয়া ও
হল না।খেতে ইচ্ছেও করছে না।মা অনেকবার বললো খেতে
কিন্তু ভালো লাগছে না বলে আর খাই নি।
.
রাতে ছাদে গেলাম।ভাবলাম হয়তো ওকে ছাদে পাবো।আর
ওকে স্যরি বলবো।কিন্তু না আমার ধারনা ভুল।সে আজ
ছাদেও আসেনি।
.
এভাবে পনেরোটা দিন নীলিমার কোনো দেখা নেই,ও আমাদের
বাসায় আর আসে না,ছাদেও যায় না।স্কুল টাইম এ কলেজ
এ না গিয়ে ওর জন্য দাঁড়িয়ে থাকি কিন্তু তাতেও ওর দেখা
নেই।বুকের বাম পাশটা তে খুব কষ্ট হতে লাগলো।ওর শূন্যটা
আমার অস্থিরতা টা আরো বাড়িয়ে দিলো।ওর সাথে আমার
দেখা করতেই হবে।
.
-মা মা চলো নীলিমাদের বাসায় যাবো।
=কেন?যে মেয়েকে তোর সহ্য হয়না।তাদের বাসায় গিয়ে তুই কি
করবি?
-প্লিজ মা চলো(পাশে খাঁচা থেকে ও পাখিটা বলছে
নীলিমা নীলিমা)তখন আরো কষ্ট হচ্ছিলো।তাই মা কে টেনে
নিয়ে গেলাম।
.
বাসায় গিয়ে কলিংবেল বাজাতেই আন্টি দরজা খুলে দিলো।
*আসেন আপা ভেতরে আসেন,আকাশ ভোতরে আসো।
আমরাও ভেতরে গেলাম।আন্টি আমাদের চা নাস্তা দিলো।
মা আর আন্টি গল্প করতে লাগলো কিন্তু আমি নীলিমা কে
খুঁজতে লাগলাম চারিদিনকে।
*নীলিমা ওর রুমেই আছে।(আন্টি আমার চারদিকে তাকানো
দেখে বুঝে ফেলছে আমি নীলিমাকেই খুঁজছি)
-আন্টি আমি কি একটু নীলিমার সাথে কথা বলতে পারি
প্লিজ।
* হুম, কিন্তু ওকে আর আঘাত দিয়ে কথা বলোনা প্লিজ। আমার
মেয়েটা একদম অন্যরকম।সবার সাথে মিশে না।কিন্তু যাকে ওর
ভালো মনে হয় তার জন্য নিজের জান তো দিয়ে দিবে মনে হয়।
তোমার কথা আমাকে আর ওর আব্বুকে অনেক বলেছে। তোমার
ময়না পাখিটা আর তোমাকে নাকি ওর খুব ভালো লাগে।
তোমার সাথে ঝগড়া না করলে ওর নাকি দিনটা খুব ভালো
যায়না। কিন্তু সেদিন তোমাদের বাসা থেকে আসার পর কেমন
হয়ে গেছে।শুধু ওর আব্বুকে বলে তোমরা যেন চলে না যাও।
প্রতিদিন তোমাদের খুঁজ নিতে বলে।খাওয়া দাওয়া ও করে না
ঠিক মতো।
.
-জ্বী আন্টি যাবো না।আসলে ভুলটা আমারই।আমি কি এখন
নীলিমার কাছে যাবো?
*আচ্ছা যাও।
.
আন্টির অনুমনি নিয়ে নীলিমার রুমে গিয়ে দেখি দরজা খোলাই
আছে তাই ভেতরে ডুকে গেলাম।দেখি নীলিমা ঘুমাচ্ছে।আগের
থেকে অনেকটা শুকিয়ে গেছে।চোখের নিচে কালো হয়ে গেছে ।হয়তো
খাওয়া দাওয়ার সাথে ঘুমটাও ছেড়ে দিয়েছে। কেমন যেন
মায়া মায়া লাগছিলো।ইচ্ছে করছিলো জরিয়ে ধরে বলি আমি
তোমাকে ভালোবাসি নীলিমা।
.
ওর কাছে গিয়ে নীলিমা বলে ডাকতেই চোখ খুলে আমার দিকে
তাকালো।
>আমাকে দেখেই উঠে বসলো।আর আমার দিকে তাকিয়েই রইলো।
মুখে কোনো কথা নেই।শুধু দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরাচ্ছিলো।মনে হচ্ছিলো
অনেক কিছু বলতে চায়।
-নীলিমা আই এম স্যরি,প্লিজ মাফ করে দাও আমাকে আর
কখনো তোমাকে বকা দিবোনা।
>আকাশ ভাইয়া আগে বলো তুমি কখনো চলে যাবেনা আমাদের
বাসা ছেড়ে।প্লিজ বলো যাবানা। (আমাকে জরিয়ে ধরে)
-না পাগলি যাবোনা। তোমাকে ছেড়ে কোথায় যাবো বলো।
>সত্যি বলছো তো যাবা না।(কেঁদে কেঁদে বলছে)
-ভালোবাসার মানুষটিকে ছেড়ে কি চলে যাওয়া যায়
পাগলি।
>তুমি আমাকে ভালোবাসো?
-হুম ভালোবাসি।
>আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
-আচ্ছা ঠিক আছে এখন ছাড়েন আমাকে।নইলে কেউ চলে
আসলে আমাকে তারিয়েই দিবে।
>ছেড়ে দিয়ে বললো।বললেই হলো আমি তোমাকে যেতে দিলে তো?আর
যদি চলে যাও তাহলে আমি মরেই যাবো।
-চুপ, একদম চুপ,আর কখনো মরার কথা বলবে না।এখন থেকে ঠিক
মতো খাওয়া দাওয়া করবা।স্কুল এ যাবা,ঘুমাবা।মনে
থাকবে তো?
>হুম
-কি হুম?
>তোমাদের বাসায় যেতে বললা না? আমি তো তোমাদের
বাসায় না গেলে,তোমার সাথে ঝগড়া না করলে ভালো
লাগে না।
-পাগলি একটা।বলে জরিয়ে ধরতে যাবো
>এই ছাড়ো।কেউ দেখলে তো তারিয়ে দিবে তোমায়।
-হা হা হা।ওকে।
এভাবে শুরু হলো আমাদের মিষ্টি প্রেমের দুষ্ট গল্প।
.
বিঃদ্র:-ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ