ডেভিল বউ - MD ASAD RAHMAN

Recent

test banner

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

ডেভিল বউ" ২য় পর্ব ওমাগো! উহহহ্ এটা কি করলে? -কামড় দিলাম। - এইগুলান কি অভ্যাস? পিচ্চিদের মতো। - এতক্ষণ পর লাইনে আসলেন। বলেছিলামতো আমি পিচ্চি, এখন বিশ্বাস হলোতো? এখন যদি বলি। আমি বিশ্বাস করিনি। তাইলে বোধহয় আরেকটা কামড় বসিয়ে দিবে। এই মেয়েকে কোনো বিশ্বাস নেই। এ সব পাড়ে। বাসর ঘরে জামাইকে ভাইয়া বলে খাট থেকে যখন নামিয়ে দিতে পেরেছে। তখন আরো অনেক কিছুই পাড়বে। -কি হলো কথা বলেন। বিশ্বাস হলত? -হুম, আহহহ্ কি ব্যাথা। -খুব বেশি লেগেছে? কই দেখি? - দেখা লাগবেনা। নবনী আমার হাতটা জোর করেই ওর হাতে নিয়ে বলল, উফফ দাগ বসে গেছে। কিযে করেন না আপনি। এই বলে আমার হাতটা ও ফুঁ দিচ্ছিল পিচ্চিদের মতো। নবনী ঠিকিই বলেছে ও একদম পিচ্চি, শুধু বয়সটাই বেড়েছে। তাছাড়া ওর সব কর্মকাণ্ডই পিচ্চিদের মতোই। -খুব বেশি ব্যাথা পাইছো? - হুম। - সরি ভাইয়া! আর এমনটা হবে না। -আবার ভাইয়া? তোমাকে কতবার বলব, এখন আমরা জামাই বউ। আর ভাইয়া বলবেনা। -আচ্ছা! আর ডাকবো না। তার আগে বল, আমাকে মাফ করেছো? -নাহ্। -মাফ পেতে হলে কি করতে হবে? তুমিও চাইলে আমাকে কামড় দিয়ে প্রতিশোধ নিতে পারো। -তা, পারি! নবনী ভয়ে ভয়ে বলল, তুমিকি সত্যই আমাকে কামড় দিবে? -নাহ্। ও খুশির ঠ্যালায় আমার গালে একটা পাপ্পি দিয়েই আঁচল দিয়ে মুখ লুকালো। আমি ওকে দেখছি আর মুগ্ধ হচ্ছি। ওর মুখে তুমি শব্দটা শুনেই হৃদয়টা আমার দুমড়ে মুছড়ে গেছে। হয়ত আমি নবনীর প্রেমে পড়ে যাচ্ছি। এরই মাঝে ফোন এলো। অনন্যা ফোন দিয়েছে। -হ্যা অনন্যা বল। - বিয়ের প্রথম রাতেই তুমি বদলে গেলা? -বদলে গেলাম মানে? - মানেটা হল আগে ফোন ধরেই আমাকে বাবুই পাখি, সোনা পাখি, জান পাখি বলতা। আর আমি না বলা পর্যন্ত ফোন কাটতেই না। আর এখন? -আসলে হয়েছে কি। পাশে মানুষ ছিলতো কি করে বলব? (এতোই যখন শখ, তবে আমায় বিয়ে করলেই পারতি। ঢঙ শুরু করছে।) মনে মনে বললাম আমি। - তোমার পাশে কে আর থাকবে তোমার ঐ ফাজিল বউটা ছাড়া। -ওকে একদম ফাজিল বলবেনা। ও একটু পিচ্চি টাইপ মেয়ে তাই দুষ্টামি করে মজা পায়। -একদিনেই ওর জন্য এত দরদ? - যতোই হোক বউ তো। (আমি অনন্যাকে শুনিয়ে শুনিয়েই বললাম। ও বুঝুক আমায় অন্য কাওকে বিয়ে করতে পারমিশন দেওয়ার ফল) টুট....টুট... করে ফোনটা কেটে দিলো অনন্যা। আমি জানি ও রাগ করেছে। রাগ করবেই বা না কেন? নিজের প্রেমিকের মুখে অন্য মেয়েকে বউ বলা শুনলে, যে কেউ রাগ করবে। আমিও চাই ও রাগ করুক। আমি ওকে এতো করে বললাম আমার বাসায় থেকে আমার বিয়ের জন্য চাপাচাপি করছে। তুমি আমায় বিয়েটা করে নাও। বিয়ের পর যা হবার হবে। না অনন্যা আমাকে কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি হলোনা। তাই আমি আমার মা বাবার লক্ষি ছেলে হয়ে নবনীকে বিয়েটা করেই ফেললাম। এখন অনন্যা হাড়ে হাড়ে টের পাবে। সতীনের কি জ্বালা। বিয়ের আগেই সতীন। হওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার। আমাদের পাশের বাড়িতে, আবুল মিয়ার দুই বউ। আহ্ কি আরাম আবুলের। এক বউ পানি চেপে দেয়। আরেক বউ গোসল করিয়ে দেয়। এক বউ রান্না করে দেইতো, আরেক বউ খাইয়ে দেয়। আমার কপালটা যদি আবুলের মতো হত। আমিও আরামে থাকতাম। এখন আমি বেআরামে আছি। আর ভাল্লাগেনা কবে যে আবুলের মতো কপাল হবে আমার। এতক্ষণ আমার আর অনন্যার সব কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিল নবনী। আমি ওকে দেখেই বললাম, তুমি ঘুমাওনি? এতো রাতে অন্যের কথা শুনছো। ভদ্রতা বলে কিছুনেই? বাবা মা শেখায়নি অন্যের কথা আড়িপেতে শুনতে হয়না। -কি বললে, তুমি? -যা শুনেছো। -ওকে। ফাইন আমি আম্মুর কাছে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করছি। আম্মু আমাকে কিছু শেখায়ছে কি না? আমি নবনী কে চেপে ধরে বললাম। জামাই বউয়ের কথা আর অন্য কাওকে বলতে হয়না। নবনী আমার থেকে নিজেকে ছাড়াতে চেষ্টা করেও পাড়ল না। তখন ও বলল, আম্মু কখনো অন্য কেউ হয়? আমিতো আম্মুর সাথে সব শেয়ার করি। -মানে, আমি যে তোমাকে জড়িয়ে ধরেছি এটাও শেয়ার করবা? -হুম, আমারতো মনেই ছিলনা। যাক তুমি মনে করিয়ে দিলে। কাল সকালে আম্মুকে ফোন করে সব বলব। ধন্যবাদ ভাইয়া। -আবারো ভাইয়া? - সরি! -এবার সরিতে কাজ হবেনা। -কি করবে তুমি? -দেখবা কি করব? -হুম। এরপর ওকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। ওর নিশ্বাসের সাথে আমার নিশ্বাসের সন্ধি হয়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে। আমিও ওর নিশ্বাসের সাথে পাগল হয়ে গেলাম। ওর কপালে একটা চুম্বন দিলাম। ও ভিষন লজ্জা পেয়ে আমার বুকেই মাথা লুকালো এরপর কখন যে দুজনে অন্য জগতে হারিয়ে গেছি ঠিক মনে নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার পাশে হাত দিয়ে দেখি কেউ নেই। ভালো করে আমার পাশে খুজেও আমি নবনী কে পেলাম না। তারমানে.... ভুল মাফ করবেন। চলবে....

কোন মন্তব্য নেই:

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages